মেলেনি ধানের ন্যায্য দাম, ঋণচক্রে কৃষক

base_1477845966-godagari20151118070116খুলনার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রতি মণ বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকা করে। অথচ মৌসুমে নতুন ধান ওঠার সময় কৃষকরা তা বিক্রি করেছেন মণপ্রতি সাড়ে ৪০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকায়। কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উত্পাদন করলেও ঋণের চাপে কম দামে তা বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। অন্যদিকে এ সুযোগে প্রচুর লাভ করছেন ফড়িয়া, মহাজন ও রাইস মিল মালিকসহ মধ্যস্বত্বভোগীরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটাসহ বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে বোরো ধান মণপ্রতি ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে তাদের উত্পাদন খরচ ও মজুরিও উঠে আসেনি। জমি চাষ, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক, সেচসহ সবশেষে ধান কাটা ও মাড়াই করতে তাদের বিঘাপ্রতি প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এ অর্থ জোগাড় করতে কৃষকদের বিভিন্ন মহাজন ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণগ্রহণ করতে হয়। ধান ওঠার শুরুতে পাওনা পরিশোধ করতে গিয়ে ফড়িয়াদের সিন্ডিকেটের কারণে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

সরকার প্রতি কেজির ধানের মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে কৃষকরা সে দাম পাননি। মহাজনদের দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে কৃষকরা সব ধানই কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হন। এ সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে ধান কিনে মজুুদ করে রাখে। পরে তা চড়া মূল্যে ধান বিক্রি করে প্রচুর লাভ করছেন তারা।

বটিয়াঘাটা উপজেলার ৫ নং ভাণ্ডারকোট ইউনিয়নের বড় হাজিরাবাদ গ্রামের মুনসুর আলী বলেন, ‘বৈশাখ মাসে প্রতি মণ ধান সাড়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি করে চাষাবাদ ও মাড়াইয়ের খরচ চালিয়েছি। এখন তা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৯০০ টাকায়। কঠোর পরিশ্রম করে ধান উত্পাদন করলেও তার ন্যায্য দাম আমরা পাইনি। এর সুবিধা নিয়েছে মজুদদাররা।’

উপজেলার ৭ নং আমিরপুর ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ গ্রামের প্রভাষ পাল বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে যদি ধানের এখনকার মতো মূল্য থাকত, তা হলে আমাদের মতো গরিব কৃষকরা উপকৃত হতেন। সাধারণ কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করেন আর ঋণের সুযোগে লাভবান হন মধ্যস্বত্বভোগী মজুদদাররা।’

ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক কৃষ্ণপদ মল্লিক বলেন, ‘এবার প্রায় চার বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম। ধানও ভালো হয়েছিল। কিন্তু চাষাবাদসহ যাবতীয় খরচ মেটাতে প্রায় সব ধানই কম দামে বিক্রি করে দিয়েছি। বর্তমানে খাওয়ার জন্যও ঘরে কোনো ধান নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের উত্পাদিত চাল আমাদেরকেই বেশি দামে ক্রয় করতে হচ্ছে। ন্যায্যমূল্য পেলে আমাদের এ দুর্দশা হতো না।’

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.