অভিবাসন ইস্যুতে ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ

indexবিশ্বজুড়ে নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ। আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী ঢাকায় ১৬০ দেশের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (জিএফএমডি) এ সম্মেলনের আয়োজন করছে। জিএফএমডির বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা বিশ্বেই নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপক তাগিদ রয়েছে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি হলো অভিবাসন সমস্যা। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণের বিষয়টি আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের’ একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, অভিবাসীদের অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫২ শতাংশ বিদেশে যায় দালালের মাধ্যমে। দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে মানুষ অবৈধভাবে বিপদসঙ্কুল সাগরপথে বিদেশে যান। বাংলাদেশ থেকে এভাবে বিদেশ যাওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই জমি বিক্রি করে বিদেশে যান। ১৮ থেকে ৩১ বছর বয়সী অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া ব্যক্তিদের ৯৮ শতাংশের বেশি পুরুষ। অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৩৪ শতাংশ যান জমি বিক্রি করে। এদের ৩৬ শতাংশ প্রাথমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব বলছে, ২০১৫ সালে বিশ্বে মোট ৪ হাজার ৩০০ অভিবাসী অবৈধ পথে অভিবাসনের সময় মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে শুধু ভূমধ্যসাগরেই ৩ হাজার ২০০ অভিবাসী ডুবে মারা যান। আন্দামান সাগর, মধ্য আমেরিকা ও আফ্রিকা উপকূলের অভিবাসন সংকট সম্পর্কেও কমবেশি সবাই অবগত। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ, নিয়মিত ও ন্যায়সঙ্গত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা আজ সবাই অনুভব করছেন। এসব নিয়েই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিম-লে কাজ করছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমাদের সরকার প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও সঠিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনা প্রণয়নে একটি বৈশ্বিক নীতিমালা ঘোষণার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের প্রস্তাব করা ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ এর গুরুত্ব বিষয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলিষ্ঠ বক্তব্য দেন। বাংলাদেশই প্রথম অভিবাসন সংক্রান্ত এ ধরনের একটি সুনির্দিষ্ট বৈশ্বিক ফ্রেমওয়ার্ক (গ্লোবাল কমপ্যাক্ট) প্রণয়নের জন্য জাতিসংঘকে অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশের অব্যাহত জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক প্রস্তাবনাকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘নিউইয়র্ক ডিক্লারেশন অন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেন্ট’ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ ধারাবাহিকতায় গ্লোবাল কমপ্যাক্ট চূড়ান্তকরণের জন্য আগামী ২ বছরব্যাপী জাতিসংঘে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে, যা ২০১৮ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে গৃৃহীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ঢাকায় : বিশ্বজুড়ে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সম্মেলন। এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য এরই মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অভিবাসন ও উন্নয়নবিষয়ক বৈশ্বিক ফোরাম জিএফএমডি ঢাকায় এ সম্মেলনের আয়োজন করছে। জিএফএমডির বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশ। গত বছরের অক্টোবরে জেনেভাভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক সংস্থাটির এক শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশে জিএফএমডির শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়। এ সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফোরামের সভাপতি হিসেবে বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.