ক্ষোভের আগুন নিভছে না

b28318218524cbb05900642fe32b6958-11মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ চলছেই। শুক্রবার সেখানে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলে। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছুটির দিন শনি ও রোববার আরও জোরদার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিল পুলিশসহ কর্তৃপক্ষ।
বেশি সহিংস বিক্ষোভ হওয়া পোর্টল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অরেগনে শুক্রবার মিছিল করার সময় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া আটলান্টা অঙ্গরাজ্যের জর্জিয়ায় জাতীয় পতাকা পোড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরেই শুক্রবার আগের দুই দিনের চেয়ে বেশিসংখ্যক বিক্ষোভকারী সড়কে নেমে আসেন। তবে ক্ষোভ দেখানোর কেন্দ্র নিউইয়র্ক শহরে ট্রাম্পের বাসভবন ট্রাম্প টাওয়ার।
অরেগনে শুক্রবার শহরের বাইরের সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। সূর্যাস্তের পর পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এ দিন সন্ধ্যায় পোর্টল্যান্ড পুলিশ টুইটারে জানায়, পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘জ্বলন্ত পদার্থ’ ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটেছে অরেগনে। এ ছাড়া শহরের মরিসন ব্রিজে বিক্ষোভের সময় গুলিতে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। কে গুলি চালিয়েছে, এখনো জানা যায়নি।
আটক কয়েকজন বিক্ষোভকারী l রয়টার্সজর্জিয়ায় প্রায় ৫০০ মানুষ শহরের কেন্দ্রে মিছিল করেছে। তারা একটি মহাসড়কে ওঠার চেষ্টাও করে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন আটলান্টা পুলিশের মুখপাত্র লুকাস সাজদাক। এই শহরে কাউকে আটক করা হয়নি। তবে স্টেট ক্যাপিটল ভবনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো হয়।
এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশ গতকাল শনিবার জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভের সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংখ্যা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভরত শোশি রবিনোউইজ বলেন, ‘হিলারিকে পরাজিত করে তিনি (ট্রাম্প) জিতেছেন, বিষয়টা আমার কাছে কতখানি যে বিতৃষ্ণার, বলে বোঝানো যাবে না।’
ফ্লোরিডার মায়ামিতে শতাধিক মানুষ ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছেন। ফক্স-এর চ্যানেল-সেভেন-এ প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল বিক্ষোভকারী আন্ত-অঙ্গরাজ্য মহাসড়কে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। আইওয়া অঙ্গরাজ্যের আইওয়া সিটিতেও বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন বলে জানিয়েছেন এই শহরের পুলিশ সার্জেন্ট ক্রিস অ্যাকার্স। এখানেও কাউকে আটক করা হয়নি।
এ ছাড়া কানেটিকাটের নিউ হ্যাভেন, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, ইলিনয়ের শিকাগো, ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন, নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে, টেনেসির ন্যাশভিলে, ওহাইওর কলম্বাস, কলোরাডোর ডেনভার ও নেব্রাস্কার ওমাহাসহ বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।
সপ্তাহান্তে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ আরও চাঙা করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা যা চাইছেন
* ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হোক
* বিভেদের বদলে সেতুবন্ধ তৈরি করা
* এ বার্তা দেওয়া, ট্রাম্পের ১০০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে না
* বিভক্তিমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করে ট্রাম্পের দুঃখ প্রকাশ

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.