ওমানে বাংলাদেশি গৃহকর্মী সুরক্ষায় ১১ নির্দেশনা

indexসালতানাত অব ওমানে গৃহকর্মে নিয়োজিত বাংলাদেশিসহ বিদেশি নারীকর্মীরা নানারকম নির্যাতনের শিকার। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ‘আই ওয়াজ সোল্ড: অ্যাবিউজ অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেশন অব মাইগ্রেন্ট ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স ইন ওমান’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ সরকার দেশটিতে নারীকর্মী পাঠানো নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এ বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ওমানে ১১ হাজার ৫৬ বাংলাদেশি নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। বর্তমানে ৬০ সহস্রাধিক বাংলাদেশি নারী আরব উপদ্বীপের এ রাষ্ট্রটিতে কর্মরত আছেন।

জানা গেছে, ওমানে অভিবাসীবিষয়ক আইনের কড়াকড়ির ফলে কর্মীরা নিয়োগকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। অন্য খাতে যারা কাজ করেন, গৃহকর্মীদেরও তাদের সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়ার সুপারিশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একই সঙ্গে পাচার, জোর করে শ্রমে নিয়োজিত করা এবং দাসত্বের বিরুদ্ধে তদন্ত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সেল তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওমানে গৃহকর্মে নিয়োজিত কর্মীরা তাদের নিয়োগকর্তার কথা শুনতে বাধ্য। তাদের কোনো বিশ্রাম, বেতন ও খাদ্য ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য করানো হয়। নিয়োগকর্তারা জানান, কেউ পালিয়ে গেলে শাস্তি পাবে, তারা অভিযুক্ত বা শাস্তির মুখোমুখি হবেন না। কমপক্ষে এক লাখ ৩০ হাজার অভিবাসী কাজ করেন সেখানে। এর বেশিরভাগই বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল ও ইথিওপিয়ার।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সবকিছু বিবেচনা করে ওমানে নারী গৃহকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত ১১ নির্দেশনায় তাদের সুরক্ষার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। গত ৯ নভেম্বর জারি হওয়া এ নির্দেশনা চলতি মাস থেকেই কার্যকর করা হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনÑ২০১৩-এর আলোকে গড়া নতুন গাইড লাইন সব রিক্রুটিং এজেন্সি, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলক পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যা রয়েছে
দেশটিতে যেসব নারী গৃহকর্মী হিসেবে যেতে চান অবশ্যই তাদের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। ন্যূনতম মজুরি হবে ১৮ হাজার টাকা (৯০ রিয়াল বা ২৩০ ডলার)। নিয়োগকর্তার মাসিক আয় কমপক্ষে ১ হাজার ওমানি রিয়াল হতে হবে। কোনো নিয়োগকর্তা তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্যের জন্য গৃহকর্মী নিয়োগ করতে চাইলে ওই নিয়োগকর্তার মাসিক আয় কমপক্ষে একশ রিয়াল হতে হবে।

নতুন নির্দেশনায় ওমানগামী নারীকর্মীদের কাছ থেকে অভিবাসনবাবদ কোনো ধরনের টাকা নেওয়া যাবে না বলে হুশিয়ার করা হয়েছে। কারণ নিয়োগকর্তাই ওই ব্যয় বহন করবেন।
গাইডলাইনে যে বিষয়টি অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে তা হলোÑ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কর্মীর প্রকৃত বয়স যাচাই করবে। অভিযোগ রয়েছে, ২৫ বছরের কম অনেক নারীকে আইনের ফাঁক গলে পাচার করা হয়।

এদিকে নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণের মেয়াদ ২১ দিনের জায়গায় ৩০ দিন করা হয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে ওই সনদ গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বামী, পিতা-মাতার অনাপত্তি পত্রও গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। একইভাবে কর্মী ওমান গিয়ে পূর্ব নির্ধারিত চাকরি বা বেতনভাতা না পেলে কর্মীর থাকা-খাওয়া ও দেশে ফেরত আসার সব খরচ সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে বহন করতে হবে মর্মে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নিয়ে রাখবে সরকার। আর বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণের আগেই নিয়োগকর্তা প্রদত্ত এবং দূতাবাসের সত্যায়িত চুক্তিপত্রে সই করতে হবে। নির্দেশনায় নারীকর্মীদের সুরক্ষা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় বিমা কার্যক্রম প্রবর্তনের বিষয়টি বিবেচনার কথাও বলা হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.