গতি পাচ্ছে এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

M_Id_417214_Lআকাশপথে যাত্রী বাড়ায় প্রতিনিয়তই নতুন নতুন রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে দেশের এয়ারলাইনসগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৈমানিক ও প্রকৌশলীর পাশাপাশি চাহিদা বাড়ছে এ খাতে দক্ষ জনশক্তির। এ অবস্থায় গত বছর একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় সরকার। নানা কারণে গত এক বছরে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে শিগগিরই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনে স্থান নির্বাচনও সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি চূড়ান্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সঙ্গে আলোচনা করবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এজন্য সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ২০ মার্চ একটি বৈঠকেরও আয়োজন করেছে মন্ত্রণালয়। এতে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক দিন ধরেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এ খাতের বিকাশ হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, এটা অনেক বড় প্রকল্প। বেবিচক এ ব্যাপারে কাজ করবে। তারাই এটা পরিচালনা করবে। বর্তমানে বেবিচকের অধীনে বিভিন্ন ফ্লাইং ক্লাব ও এভিয়েশন ইনস্টিটিউট পরিচালিত হচ্ছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই রাজধানীর আশকোনায় হচ্ছে দেশের প্রথম এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য এরই মধ্যে বেবিচকের আওতাধীন ১২ একর জমি নির্বাচন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে চলবে বিশেষায়িত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি, বার্নেল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির সঙ্গে এডুকেশন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম থাকবে। গত বছরের জুনে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, দেশে বর্তমানে মাত্র তিন থেকে সাড়ে ৩০০ বৈমানিক কর্মরত। বৈমানিক হিসেবে প্রাথমিক প্রশিক্ষণের জন্য মাত্র তিনটি ফ্লাইং একাডেমি রয়েছে। এসব একাডেমির প্রশিক্ষণও আবার বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যাও খুব কম। ফলে প্রয়োজন মেটাতে দেশের বাইরে থেকে বৈমানিক ও প্রকৌশলী আনতে হয় এয়ারলাইনসগুলোকে। এতে এয়ারলাইনসের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় প্রতিযোগী এয়ারলাইনসগুলো থেকে পিছিয়ে পড়তে হয়। এ অবস্থায় একটি পাবলিক এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভালো সমাধান হতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা এ খাতে দক্ষ জনশক্তি জোগানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে বিদেশী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব। কারণ সারা বিশ্বেই এভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আকাশ পরিবহনে ২৩ হাজার পাইলট ও উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে ৩০ হাজার জনবল প্রয়োজন হয়। আগামী ২০ বছরে এভিয়েশন খাতে ১৭ হাজার নতুন দ্রুতগামী বাণিজ্যিক উড়োজাহাজসহ মোট ২৫ হাজার নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। ফলে এ খাতে আরো ৪ লাখ ৮০ হাজার টেকনিশিয়ান ও সাড়ে তিন লাখ পাইলটের প্রয়োজন হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আমাদের দেশে এভিয়েশন খাত এখনো বিকাশ লাভ করেনি। ফলে একটি এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব, যা দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও এটি জোর ভূমিকা রাখবে। কারণ অধিকাংশ পর্যটক উড়োজাহাজে চড়েই আসেন। আর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়েই একটি দেশের মাটিতে পা রাখেন তারা। এক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের মাধ্যমে তাদের উন্নত সেবা প্রদান করা গেলে তা পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.