সরকার সুযোগ দিলেও অবৈধ শ্রমিকদের ধরপাকড় শুরু করেছে সৌদি

imagesসৌদি আরবে অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিলেও দেশটির পুলিশ অবৈধ কর্মীদের আটক করে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে দেড়শ’র বেশি বাংলাদেশী কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর মিলেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, এটা তাদের নিয়মিত অভিযান। এতে বড় কোন ক্ষতি হবে না। যাদের আটক করা হয়েছে, তারা কোন না কোন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অবৈধ হওয়ার কারণে তাদের আটক করা হয়নি। কারণ দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মীকে বৈধ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এরপরও দূতাবাসের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের খবর নেয়া হবে।

সূত্র জানিয়েছে, গত ২৯ মার্চ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যদি কেউ বৈধ হতে না পারেন, তাহলে তাকে নির্দিষ্ট সময় শেষে দেশে ফিরতে হবে। সম্প্রতি দেশটির ক্রাউন প্রিন্স স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন নাইফ সৌদি আরবকে অবৈধ অভিবাসী ও কর্মী মুক্ত করতে ‘ন্যাশন ফ্রি অব ভায়োলেটরস’ শীর্ষক এক প্রচারাভিযান চালান। ওই সময় তিনি ঘোষণা দেন, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। ফিরে যেতে না চাইলে বৈধ হওয়ার জন্য ৯০ দিন সময় দেয়া হলো। এই সময় পার হলে আর কোন অবৈধ নাগরিককে দেশে থাকতে দেয়া হবে না। এ ঘোষণায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেরও বড় সংখ্যার কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সৌদি সরকারের ঘোষিত প্রথম দফার (২০১৩ সালে) সুযোগে দেশটিতে থাকা বিভিন্ন দেশের প্রায় ২৫ লাখ অবৈধ কর্মী ও অভিবাসী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশী প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রিয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে সৌদি আরবে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ৯০ দিনের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন মোহাম্মাদ বিন নাইফ। ২৯ মার্চ থেকে এ ঘোষণা কার্যকর। সাধারণ ক্ষমার নির্দেশে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসী ও কর্মী এবং সীমান্ত আইন লঙ্ঘনকারীরা এই সুযোগ নিয়ে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। কেউ চাইলে নিজ দেশে ফিরে যেতেও পারবেন। অবৈধরা দেশে ফিরে গেলে তাদের জরিমানা ও দ- মওকুফ করা হবে। তাছাড়া দেশে ফিরতে সৌদি সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। অবৈধ কর্মীরা চাইলে দেশে ফিরে আবার বৈধভাবে সৌদি আরবে আসতে পারবেন। এ প্রচারাভিযান বাদশাহ সালমান অনুমোদন করেছেন। অবৈধ অভিবাসী ও কর্মী সঙ্কট মীমাংসা করতে চান বাদশাহ। অবৈধ হয়ে পড়া লোকজন সাধারণ ক্ষমা পাবেন এবং দ-িতরা দ- মওকুফের সুযোগ নিয়ে বৈধ হতে পারবেন।

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হিসেবে তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবকেই ধরা হয়। দেশটির সংবাদ মাধ্যম সৌদি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে ১৩ লাখ বাংলাদেশী বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। যাদের মধ্যে ৬০ হাজার নারী গৃহকর্মী রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, প্রথম দফা সৌদি বাদশাহর বিশেষ ক্ষমায় অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালের ১০ মে থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ওই সময় বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মী প্রেরণকারী দেশ ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্সসহ আরও কয়েকটি দেশ সুযোগটি গ্রহণ করে। এবার সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী দেশটির কারাগারে বন্দী ও পুলিশের তালিকায় অবৈধ কর্মীরাও বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। তারা প্রতিনিধি নিয়োগ করে এ সুযোগ নিতে পারবেন। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে যদি কেউ বৈধ হওয়ার আবেদন না করতে পারেন তাহলে তাকে দেশে ফিরতে হবে। দীর্ঘদিন পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ আবার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। এরপর দেশটি অবৈধ কর্মীদের জন্য আর কোন সুযোগ দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী সৌদিতে বাংলাদেশের প্রায় ১৩ লাখ কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে অর্ধেক কর্মী অবৈধ হয়ে পড়েছিল। কিছু দিন আগে সৌদি পুলিশ অবৈধ বহু কর্মীকে ধরে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। আবার অনেককে তাদের কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। এবারই প্রথম আটককৃতরাও বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ চলবে। বর্তমানে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মী চাকরি নিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন বাজারটি বন্ধ থাকার পর গত বছর থেকে দেশটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু করেছে। বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কর্মী নিয়োগ দেবে সৌদি আরব।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.