বিএনপির সঙ্গে সিইসির গোপন আঁতাত আছেঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

রোববার দুপুরে ফরিদপুর শহরের সারদা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক নির্বাচনী সভায় তিনি সিইসির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাকে ফোন করে বলেন- ফরিদপুর সদর আসনে নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কামাল ইউসুফকে নির্বাচনের মাঠে নামতে দিচ্ছি না। আমি তাকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, কোনো প্রার্থী যদি মাঠে না নামেন তাহলে আমার করার কী আছে? অথচ আমি এখনও মন্ত্রী অথচ তিনি আমার ফোনটি পর্যন্ত রিসিভ করেন না।

তিনি বলেন, বর্তমান সিইসি ফরিদপুর জেলার যখন ডিসি ছিলেন তখন বিএনপির মন্ত্রী ছিলেন চৌধুরী কামাল ইউসুফ। সিইসির সঙ্গে কামাল ইউসুফের গোপন আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ জনপ্রিয়তা হারিয়ে ভাল-মন্দ বোধশূন্য হয়ে পড়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় নেতাকর্মী বা জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই। তাই তিনি পাগলের প্রলাপ বকা শুরু করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কামাল ইউসুফ প্রচারণায় বাধা সৃষ্টির মিথ্যা অভিযোগ করছেন। নির্বাচন থেকে নিজে সরে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছেন। বিএনপির অভিযোগ পেয়ে সেটাকে গুরুত্ব দেয়া হয়, নির্বাচন কমিশন থেকে আমার কাছে ফোন করে জানতে চাওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য যখন আমি সিইসি কে এম নূরুল হুদাকে ফোন করি। তখন তিনি আমার ফোন ধরেন না। এমনকি ভদ্রতা বা সৌজন্যতাবশতঃ আমাকে ফিরতি ফোনও করেন না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা কি নির্বাচন কমিশনের স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব নয়? ওদের (বিএনপির) সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো গোপন আঁতাত আছে। তাই আমার ফোন ধরেন না। নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের আচরণ মেনে নেয়া যায়না।

মন্ত্রী বলেন, ফরিদপুর শহর একসময় সন্ত্রাসের জনপদ ছিল, এখন আর সে অবস্থা নেই। ফরিদপুর শহর এখন শান্তির শহর। এই শহরে আর কাউকে অশান্ত করতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, ফরিদপুরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে আরও উন্নয়ন হবে। নৌকা হচ্ছে উন্নয়নের মার্কা, নৌকা হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রতিক। আগামী ৩০ ডিসেম্বর সবাইকে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানান তিনি।

ফরিদপুর শহরের ১ ও ২নং কেন্দ্র কমিটির আয়োজনে নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন মনজুরুল হক। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঝর্না হাসান, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হাসান লেভী, যুবলীগের আহবায়ক এএইচএম ফোয়াদ, শহর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও পৌরমেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বরকত ইবনে সালাম, শ্রমিক লীগের সভাপতি আক্কাস হোসেন, শ্রমিক নেতা গোলাম মো. নাছির, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.