বিমানবন্দর থেকে বেরুতেই নাকে লাশের গন্ধ

nepal-earthquake-baby-rescueঅনলাইন ডেস্ক: রাত সোয়া ১০টায় প্লেন থেকে নেমেই চোখে পড়ে অনেকগুলো বাক্স, ত্রাণ এসেছে নানা দেশ থেকে। এয়ারপোর্টে ঢুকতেই ফাটল দেখা গেল মেঝেতে, ভূমিকম্পের ফাটল। ভেতরে তখন লম্বা লাইন, অন অ্যারাইভাল ভিসা নিচ্ছেন তারা। মাত্র দু’টি কাউন্টারে কর্মী ও কর্মকর্তা রয়েছেন। এত মানুষের ভীড় সামলাতে তারাও হিমশিম খাচ্ছেন। এরপর লাগেজের অপেক্ষা…নিচের তলায় এসেই আরও অন্যরকম পরিস্থিতি। বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা লাগেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন, কেউ আবার লাগেজ হারিয়ে ফরম জমা দিচ্ছেন ফেরত পাওয়ার আশায়। অপেক্ষমানদের মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ১১ সদস্যের একটি পরিবার পাওয়া গেল। কিছু ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এসেছেন নেপালের বিপন্ন মানুষের সেবায়।

বাংলাদেশ থেকে আসা ২৬ জন নেপালীর দেখা মিললো। দেশের এ দুঃসময়ে পাশে থাকতে এসেছেন তারা। তাদের একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের চিকিৎসক আনজিল। তিনি বলেন, সপ্তাহ তিনেক থাকবো। ২৫ এপ্রিল ঢাকা ছিলাম। নিজেদের মানুষদের পাশে এখন না থাকলে আর কখন থাকবো।বললেন, বড় বিপদের আশঙ্কা আর করছিনা। তবে এখনও যারা বেঁচে রয়েছেন, তাদের ভাল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। অপরজন শিলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হলে থাকেন। তিনি ও আনজিল সাবধান করে বললেন, পানিটা সাবধানে খাবেন, একটু ক্লোরিন মিশিয়ে। আর মাস্ক ব্যবহার করবেন। এখন বিভিন্ন রোগবালাই হওয়ার সময়।

টানা অপেক্ষার পর ব্যাগ পাওয়া গেল, কিন্তু নেপালীদের জন্য আনা ওষুধের বক্সের সন্ধান পাওয়া গেল না। এক কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন ২শ’ গুণ বেশি লোড নিচ্ছে এই এয়ারপোর্ট। ঠিক দেড়টায় কাজ শেষ জেনে এয়ারপোর্টের বাইরে এলাম। তখনই গন্ধটা নাকে লাগলো, মানুষ পঁচা গন্ধ। এ গন্ধই জানান দেয় নেপালের দুঃসময়ের ভয়াবহতা। বাংলাদেশ হাই কমিশনে ঢুকতে চোখে পড়ে মেঝেতে টানা বিছানা করা হয়েছে। শুয়ে রয়েছেন কয়েকজন। স্থানীয় একটি হোটেল মালিক সাদাফ জানালেন, হঠাৎ নড়ে ওঠে এসব এলাকা, তখন বিছানা ছেড়ে দৌঁড়ে খোলা রাস্তায় চলে যায় সবাই। হাই কমিশনের একটি ফ্লোরে বড় পাতিলে ভাত, ডাল ও সবজি রয়েছে। এটাই এখানে থাকা মানুষগুলোর খাবার। কাছেই হোটেলে ঢুকলাম। জানলাম, নেপালের হোটেলগুলোর বেশিরভাগই স্টাফ ছাড়া চলছে। ভয়ে সবাই যার যার মতো চলে গেছে। বেশিরভাগ মানুষ নিচতলা বা সিঁড়ির পাশের কক্ষ নিতে চান, যাতে দ্রুত বের হওয়া যায় ভূমিকম্প শুরু হলে। সাদাফ বলেন, আপনারা যখন এয়ারপোর্টের ভেতরে-তখনও একটা ভূমিকম্প হয়েছিল। দফায় দফায় হচ্ছে, ছোট ছোট ঝাঁকুনি। সবাই তাই আতঙ্কে থাকে। -বাংলানিউজ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.