ঢাকঢোল পিটিয়ে লন্ডন রুটে ৩ ফ্লাইট চালিয়ে বন্ধ হংসবলাকা : কাল এজিএম

ঢাকঢোল পিটিয়ে লন্ডন রুটে ৩ ফ্লাইট চালিয়ে বন্ধ হংসবলাকা : কাল এজিএম

শামিম আহমেদ ও জোবায়ের অভি : ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে, বিপুল অংকের টাকার বিজ্ঞাপন দিয়ে লন্ডন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষনা দিয়ে হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নতুন আনা ড্রিমলাইনার হংসবলাকার ফ্লাইট। বিমানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও জানানো হয়েছিল এই ফ্লাইট পরিচালনার কথা। কথা অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর থেকে লন্ডনে সপ্তাহে ৬টি ফ্লাইট অপারেট করার কথা। সেভাবে প্রথম তিনটা ফ্লাইট অপারেট করা হয় ড্রিমলাইনার হংসবলাকা দিয়ে। তারপর হঠাৎ সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়। অথচ এ জন্য ঢাক ঢোল পিটিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা পয়সা খরচ করে এ প্রস্তুুতি নেয়া হয়। এখন ড্রিমলাইনারের পরিবর্তে ৭৭৭ দিয়েই সপ্তাহে ৬টি ফ্লাইট অপারেট করতে  হচেছ।
এতে একদিকে বিমানের আার্থিক গচছার পাশাপাশি ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে মারাত্মক। কেননা ইতোমধ্যে ড্রিমলাইনারের নামে টিকেট বিক্রি করা হয়ে গেছে বিপুল র্সংখ্যক। অনেকেই শুধু ড্রিমলাইনারে চড়ার জন্য টিকেট কিনেছেন। এখন তাদেরকে ইচছার বিরুদ্ধে চড়তে হচেছ ৭৭৭ উড়োজাহাজে। এতে ২৭১ যাত্রীর ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৬টি ড্রিমলাইনারে ১৬২৬ জন যাত্রীকে পাঠাতে হচেছ ৪১৯ আসনের ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ দিয়ে- যার সাপ্তাহিক ক্যাপাসিটি ২৫১৪ জন। এতে বিমান বড় ধরনের ক্যাপাসিটি লসের শিকার হচ্ছে।

এমন তুঘলকি কান্ডের জন্য কারা দায়ি জানতে চাইলে প্রশাসণ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন- লন্ডনে যাওয়ার মতো ড্রিমলাইনারের ককপিট ক্রু তৈরি করতে পারেনি বিমান। সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এ জটিলতা দেখা দিয়েছে। ডিএফও (পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন) এ নিয়ে সিদ্বান্ত দিতে পারেনি। বাপার পরামর্শে কাজ করতে গিয়ে এ জটিলতা দেখা দিয়েছে। ড্রিমলাইনারের জন্য ককপিট ক্রু  তৈরি নিয়ে ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের এই স্বেচছারিতার কারণেই এ সংকট। সপ্তাহে লন্ডনে ৬টি ফ্লাইট অপারেট করার মতো ক্রু না থাকার পরও বিমানের উচিত হয়নি তা ঘোষনা দেয়া এবং বন্ধ করা। সম্প্রতি ডিএফও ক্যাপ্টেন ফারাহাত জামিলকে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রির ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেয়ার পর তাকে বড় কোন দায়িত্বে না রাখার পরামর্শ  দিয়েছিল একটি গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু সেটাও মানেনি বিমান। লন্ডন ফ্লাইট নিয়ে কেন এ ধরণের সিদ্বান্তহীনতা- জানতে চাইলে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ।

এদিকে শুন্য তহবিল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে কাল বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভা। জানাগেছে বর্তমানে বিমানের তহবিলে টাকা নেই। চলতি বছর হজের দুমাস ছাড়া বাকি দশ  মাসই লোকসান গুনেছে বিমান। এমন অব্স্থায় হজের লাভের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে উত্তাল বিমান। আপার ও মিড লেভেলের অফিসারদেরকে সে লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষণায় ফুসে উঠছে ক্যাজুয়াল গ্র“পের আড়াই হাজার কর্মচারি যাদের পরিশ্রমেই বিমান হজের সময় লাভের মুখ দেখেছিল। অথচ তাদের ব্যাপারে বিমান কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

এদিকে চারটি ব্র্যান্ড নিউ ৭৭৭ উড়োজাহাজের অধিকাংশের মনিটর নষ্ট। টাকার জন্য রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচেছনা। ড্রিমলাইনার দিয়ে লন্ডনে সপ্তাহে ৬টি ফ্লাইট  অপারেট করার ঘোষণা দিয়ে মাত্র তিনদিনে মাথায় তা বাতিল করা হয়। প্রায়ই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলম্ব হচেছ ফ্লাইট। প্রকৌশল ও পরিকল্পান বিভাগে উচ্চ বেতনে দুজন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হলেও তাদের পারফর্মেন্স নিয়ে হতাশ বিমান। দীর্ঘদিন পর ৩৩ জন শিক্ষানবিশ অফিসার নিয়োগ দিলেও তাদেরকে পদায়ন দিতে পারছেনা বিমান, বসিয়ে বেতন দেয়া হচেছ। আবার ঘোষণা দিযে ক্যাজুয়াল শ্রুমিকের মাত্র গুটিকয়েকজনের চাকুরি স্থায়ী করার সিদ্বানে Í ফের অসন্তোষ দানা বাধছে। তারা এখন আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচেছ। সংকটের শেষ এখানেই নয়। ভিয়েতনামে এক বছর ধরে পড়ে রয়েছে লিজে আনা দুটো ৭৭৭। এ দুটোর জন্য নির্ধারিত ৫টি ইঞ্জিন ঠিক করতে দরকার কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন ডলার। এমন জটিল পরিস্থিতির মাঝে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্টিত হবে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। এসব ইস্যূতে উপ্তত্ত হতে পারে সাধারণ সভা। এরই মাঝে দাবি ওঠেছে- বিমানকে সঠিক পথে গতিশীল করতে দরকার একটি পেশাদারিত্বের সমন্বিত পর্ষদ। জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ বলছেন- ভিয়েতনামে পড়ে থাকা দুটো বোয়িং কবে নাগাদ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে তা বলা মু¯িকল। তবে শিগগির আনার চেষ্টা চলছে।
তবে বিমানের সাধারণ স্টাফরা চাচেছ –এবার পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন করে ঢালাও ভাবে সাজানো হোক বিমান। তবেই সামনের দিকে এ লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
বিমানের অর্থ শাখা জানিয়েছে, একদিকে আর্থিক সংকট,অন্যদিকে প্রকৌশল শাখার অথর্ব অযোগ্য লোকজনের স্বেচছাচারিত, দুনীর্তি ও অরাজকতরা দরুণ্ একের পর এক উড়োজাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ছে। গ্রাউন্ডেড হয়ে আছে লিজ বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে আছে প্রকৌশল শাখা। আর্থিক সংকটের কারণ কি জানতে চাইলে বিমানের ভেতরের একটি সূত্র জানায়, অপচয়, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়ের আধিক্য, ও পাইলটদেরকে এরিয়া সহ বিপুল অংকের বেতন বৃদ্বির  কারণেই হঠাৎ আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে বিপুল সম্ভাবনার এই এয়াারলাইন্স। আার্থিক শাখা জানিয়েছে, চলতি বছরের একমাত্র হজের দুই মাস ছাড়া বাকি ১০ মাসই বিমান লোকসান গুনেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সামনে দিনগুলোতে আরও সংকটের মুখে পড়তে হবে বিমানকে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.