ছোট্ট শিশু আশিকের সঙ্গে পড়ে ছিল রক্তমাখা বই

ছয় দিন না পেরোতেই শেষ হয়ে গেল তার স্কুলজীবন। ছুটির ঘণ্টা পড়ার আগেই শেষ ছুটি নিয়ে গেল ছোট্ট শিশু আশিক ইকবাল (৫)। নতুন বইয়ের রক্তমাখা ব্যাগটিও দুমড়েমুচড়ে পড়ে থাকল নিষ্প্রাণ দেহের সঙ্গে।

সোমবার সকালে এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুরে। নিজের স্কুল গদাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে দুটি ইঞ্জিন ভ্যানের মধ্যখানে পড়ে চাপা খেয়ে প্রাণবায়ু নিভে গেল তার।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, আশিক ইকবাল গত বুধবার আমার স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। সরকারের দেয়া তিনটি নতুন বইও পেয়েছিল সে। এই বই নিয়ে স্কুলে আসছিল ২৬ রোলের আশিক ইকবাল।

তিনি জানান, সড়ক দিয়ে ধেয়ে আসছিল যাত্রীবাহী একটি ইঞ্জিন ভ্যান। বিপরীত দিকে দাঁড়িয়েছিল বিচালি বোঝাই আরও একটি ইঞ্জিন ভ্যান। ছোট্ট শিশু আশিক ইকবাল এই দুইয়ের ফাঁক দিয়ে রাস্তা পেরিয়ে মাত্র দুই হাত দূরের গেট দিয়ে স্কুলে ঢুকছিল।

এ সময় দুই ভ্যানের চাপা খেয়ে পিষ্ট হয় আশিক। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে যায় তার দেহ। তার নতুন বইয়ের ব্যাগটিও পড়ে রইল সড়কের মাঝখানে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুলের ছাত্রছাত্রী শিক্ষকরা ছুটে আসেন। দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আশাশুনি হাসপাতালে। সেখান থেকে সাতক্ষীরায় আনার পথে মহেশ্বরকাটি এলাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে প্রথম শ্রেণির ছাত্র আশিক। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তা অবরোধ করে। তারা আটক করে দুই ভ্যানের চালক সাগর হোসেন ও আল আমিনকে।

ঘটনাস্থল থেকে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানান, জেলা প্রশাসক ও তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

পরিস্থিতি এখন শান্তনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারটির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া হবে।

আশাশুনি থানার এসআই রাসেল জানান, দুই চালককে আটক করা হয়েছে। আশিক ইকবালের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার দাফন সম্পন্ন হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.