যুক্তরাষ্ট্রে চলছে ইতিহাসের দীর্ঘ অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে চলছে ইতিহাসের দীর্ঘ অচলাবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আংশিক অচলাবস্থা সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদের রেকর্ড গড়েছে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ নিয়ে বিরোধীপক্ষের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতানৈক্যের জেরে সৃষ্ট অচলাবস্থা এখনও চলছে। মার্কিন সরকারের আংশিক অচলাবস্থা এর আগে এত দীর্ঘমেয়াদী হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আংশিক অচলাবস্থা ২২ দিনে পৌঁছেছে। যা পেছনে ফেলেছে ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দিনের অচলাবস্থার রেকর্ডকে। আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ক্ষমতায় থাকার সময় সেই অচলাবস্থার মেয়াদ ছিল ২১ দিন।
মার্কিন সরকারের দীর্ঘমেয়াদী এ অচলাবস্থার নেপথ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একগুয়েমি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার কথা বলে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য ৫৭০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের বিরোধীপক্ষ ডেমোক্র্যাটরা তার অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন।

চাহিদা মাফিক বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবারের বাজেটে এখনো স্বাক্ষর করেন নি। তাই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক চতুর্থাংশ বিভাগের কাজ বন্ধ রয়েছে। বড়দিন পার হয়ে গেলেও প্রায় আট লাখ কর্মী তাদের বেতন-ভাতা পান নি। এদিকে সম্প্রতি ট্রাম্প হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি তার চাহিদা মাফিক বরাদ্দ না পান তাহলে জরুরি অবস্থা জারি করে বাজেট পাস করাবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প। আর সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তা প্রেসিডেন্টের দাবি অনুসারে অর্থ বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য যথেষ্ট নয়। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট পাস করতে হলে সিনেটের কমপক্ষে ৬০টি ভোটের প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু সেখানে রিপাবলিকানদের আসন রয়েছে ৫১টি।

যদিও ডিসেম্বরের শেষ দিকে যখন এই অচলাবস্থার শুরু হয় তখন প্রতিনিধি পরিষদ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন নিম্নকক্ষে ট্রাম্পের দাবি মেনে নিয়ে একটি অর্থবাজেট অনুমোদনও পেয়েছিল। কিন্তু উচ্চকক্ষ সিনেটে গিয়ে সেই অর্থবাজেট আটকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দু্ দলের এমন মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বিপদে পড়েছেন লাখ লাখ কর্মী। তারা বছরের প্রথম মাসের বেতনও তুলতে পারেন নি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.