ভারতে মোবাইল ফোন উৎপাদন কমাতে পারে স্যামসাং

ভারতে মোবাইল ফোন উৎপাদন কমাতে পারে স্যামসাং।

ভারতে ফেজড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রোগ্রাম (পিএমপি) বাস্তবায়ন বিলম্বিত না হলে মোবাইল ফোনের উৎপাদন কমিয়ে আনতে পারে স্যামসাং। এ ব্যাপারে চিঠি দিয়ে দেশটির সরকারকে অবহিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পিএমপি কার্যকর হলে ভারতে মোবাইল ফোন উৎপাদনের জন্য স্থানীয়ভাবে ডিসপ্লে ও টাচ প্যানেলের মতো যন্ত্রাংশ তৈরি করতে হবে। স্থানীয় উৎস থেকে সংগ্রহ না করে আমদানি করলে এসব যন্ত্রাংশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে, যা সারচার্জসহ বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১১ শতাংশে। এতে ব্যয় বেড়ে দেশটিতে গ্যালাক্সি এসনাইন ও নোটনাইনের ফ্লাগশিপ মডেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্যামসাং। খবর ইকোনমিক টাইমস।
এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সরকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্যামসাং ইন্ডিয়া ইলেকট্রনিকসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডিসপ্লে প্যানেল আমদানিতে শুল্ক কার্যকর হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে ভারতে আমাদের ফ্লাগশিপ পণ্য (নোটনাইট ও এসনাইন) উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, পিএমপি কার্যকর হলে ২০১৯ সালের মধ্যে মোবাইল ফোন রফতানি ৪০ শতাংশে উন্নীত করা এবং সামগ্রিক উৎপাদনের ১৫ শতাংশই ভারতে উৎপাদনের পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। উচ্চব্যয়ের কারণে ভারতে তৈরি মোবাইল ভিয়েতনামের মতো উৎপাদন ব্যয় কম, এমন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।
স্যামসাং জানায়, ১০ কোটি ডলার ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভারতে ডিসপ্লে অ্যাসেম্বলি প্লান্ট স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ২০২০ সালের ১ এপ্রিল এ প্লান্টের কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এ প্লান্টে মূলত অ্যামোলেড স্ক্রিন তৈরি করা হবে।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ১৪ জানুয়ারি স্যামসাং ইন্ডিয়া ইলেকট্রনিকসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মানু কাপুরের পাঠানো এ চিঠিতে প্রাপক হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি অ্যান্ড প্রমোশন, মিনিস্ট্রি অব ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমসের ঠিকানা দেয়া আছে।
তবে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্যামসাং বিশ্বের শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা। গত জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটি ৪ হাজার ৯১৫ কোটি রুপি ব্যয়ে ভারতের নয়ডায় বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল ফোন কারখানা চালু করে। বর্তমানে এ প্লান্টের উৎপাদনক্ষমতা ৬ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট। ২০২০ সালের মধ্যে স্যামসাং এ সক্ষমতা ১২ কোটি ইউনিটে উন্নীত করতে চায়। সরকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ২০২২ সালের মধ্যে এ প্লান্ট থেকে ১ হাজার কোটি ডলার আয় করা সম্ভব।
এলইডি প্যানেলে আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় গত প্রান্তিকে ভারতে টেলিভিশন উৎপাদন বন্ধ করে দেয় স্যামসাং। টেলিভিশন উৎপাদন ব্যয়ের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই এই যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যয় হয়। এর বদলে বর্তমানে ভারতের বাজারের জন্য ভিয়েতনাম থেকে সম্পূর্ণ টিভি সেট আমদানি করছে স্যামসাং। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এলইডি প্যানেল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ভারতের সরকার।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতের সেলফোন বাজারের আকার প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি রুপি।
আকারের দিক দিয়ে এ বাজার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। এ তালিকায় শীর্ষে আছে চীন। পণ্য আমদানির মাধ্যমে চীনা নির্মাতারা ভারতের বাজার দখল নিতে থাকায় দেশটির সরকার ২০১৭ অর্থবছরে মোবাইল ফোন উৎপাদনে পিএমপি চালুর উদ্যোগ নেয়। এ কর্মসূচির আওতায় সেলুলার হ্যান্ডসেট ও যন্ত্রাংশ ভারতে তৈরিতে উৎসাহ দেয়া হয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারত সরকার পিএমপি কার্যকরের সময়সীমা এগিয়ে আনে। এর ফলে শুল্ক এড়াতে হলে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ডিসপ্লে ও টাচ প্যানেলের মতো যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করতে হবে। যদিও স্যামসাংসহ টেলিকম যন্ত্রপাতি উৎপাদকরা ২০২০ সালের মার্চের মধ্যে ভারতে এসব যন্ত্রাংশ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছিল।
মোবাইল ফোনের উৎপাদন ব্যয়ের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই ডিসপ্লে প্যানেল তৈরিতে খরচ হয়। ভারতে এখনো এ ধরনের ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশ উৎপাদন হয় না। এছাড়া পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে বাকি যন্ত্রাংশগুলোর উৎপাদনও বাড়ানো দরকার। এ কারণে স্থানীয় উৎস থেকে সংগ্রহ সম্ভব না হওয়ায় মোবাইল ফোন নির্মাতারা আগামী অর্থবছরের শেষ নাগাদ পিএমপি কার্যকরের জন্য লবিং করে আসছে।
চুক্তিভিত্তিক যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিক্সন টেকনোলজিসের চেয়ারম্যান সুনীল বাচানি বলেন, দুই বছর ধরে ভারতের সেলফোন বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে যন্ত্রাংশ উৎপাদনে তেমন একটা বিনিয়োগ করেনি। একই কারণে সব ধরনের উৎপাদন পরিকল্পনাও বিলম্বিত হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.