এসিটি সহায়তা করলে নেপালের বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিলঃ বেবিচক

ত্রিভুবনে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নেপাল। গত বছরের ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার দায় আবারও বাংলাদেশের পাইলট আবিদ সুলতানের ওপর চাপানো হল। প্রতিবেদনে পাইলট মানসিক চাপে থাকা, ল্যান্ড করতে ভুল করাসহ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। গত রোববার প্রকাশিত নেপালের ৫৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে একতরফা পাইলটকে দোষারোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি)।

২৮ জানুয়ারী সোমবার বিকেলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেন এএআইজি-বিডি’র প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতউল্লাহ।

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার সংক্রান্ত অ্যামেইনমেন্ট বাংলাদেশের পক্ষ  থেকে দেয়া হয়েছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতউল্লাহ।

সালাহ্উদ্দিন বলেন, নেপালের তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে তা ঠিক আছে। এখানে পাইলটের ভুল গুলো একতরফা ভাবে নেয়া হয়েছে । কিন্তু নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এটিসির যে ত্রুটি ছিল এগুলো প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। পাইলট ল্যান্ড করতে অ্যাপ্রোচ মিস করেছিলেন। কিন্তু সেখানকার এটিসি পাইলটকে সহায়তা করতে পারত, তারা তা করতে পারেনি। বরং বিমানটি যখন এটিসি টাওয়ায়ের কাছ দিয়ে যেয়ে বিধ্বস্ত হয় তখন এসিটি টাওয়ারের কর্মকর্তারা জানের ভয়ে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। তারা যদি পাইলটকে সঠিক ভাবে  সহযোগিতা করত তাহলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হত, কিন্তু ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার (এটিসি) তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

পাইলটের ধুমাপান বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে সালাহ্উদ্দিন বলেন , নেপালের তদন্তে বলা হচ্ছে পাইলট ককপিটে বসে ধূমপান করছিলেন। এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। কারণ, এয়ারক্রাফটে ধূমপান না করার আন্তর্জাতিকভাবে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে টয়লেটে ধূমপান না করার জন্য নির্দেশনা থাকে। সুতরাং এটি দুর্ঘটনার কোনো কারণ নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাঈম হাসান বলেন, অনেক সময় পাইলটরা দিক হারিয়ে ফেলেন। এটা স্বাভাবিক এবং প্রায় ঘটে। নেপালে পাহাড়ঘেরা বিমানবন্দর হওয়ায় এ ঝুঁকি বেশি। সেদিন পাইলট দিক হারিয়ে ফেলেছিলেন। পাইলট সেদিন কোনো কারণে অ্যাপ্রোচ মিস করেছিলেন। তবে তাকে সহায়তা করার দায়িত্ব ছিল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের। নেপালের এটিসি সেটি করেনি।

নেপালের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাইলট আবিদ ইউএস বাংলার এয়ারলাইন্সে এক নারী সহকর্মীর ব্যবহারে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং রাতে তার ঠিকভাবে ঘুম হয়নি। অন্যদিকে কো-পাইলট প্রথমবারের মতো ওই ফ্লাইটে ছিলেন।

তবে উড়োজাহাজের কোনো ত্রুটি পায়নি নেপালের তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে বেবিচকের জন্য দুটি, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ১১টি এবং নেপালের সিভিল এভিয়েশনের জন্য দুটি সেফটি সংক্রান্ত পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য ,গত বছরের ১২ মার্চ ৭১ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুগামী বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১ ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এতে নিহত ৫১ জনের মধ্যে ২২ জন নেপালি ও একজন চীনা নাগরিক ছিলেন, অন্যরা সবাই বাংলাদেশি।

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.