তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর প্রায় এক ঘণ্টা অচল হয়ে পড়ে। ঘুষ গ্রহণকালে এপিবিএন এর সদস্যরা সিভিল এভিয়েশনের এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক মারধরের প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দেয় সংস্থাটি। এসময় বিমানবন্দর টার্মিনালে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দিয়ে সিভিল এভিয়েশনের কর্মীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। এদিকে নির্ধারিত সময়ে বিমান বন্দরে প্রবেশ করতে না পেরে যাত্রীরাও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিমান বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ন (এপিবিএন) সদস্যদের সঙ্গে আজ রোববার এ বিষয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রেজানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১১ সময় দ্বিতীয় তলায় ৬ নং বহিগর্মণ গেট এলাকায় কর্মরত সিভিল্ এভিয়েশান নিরাপত্তা সদস্য খায়রুল ইসলাম (সিএ নং ০১০৮৯) এক যাত্রীর এম্বারগেশান কার্ড পূরণ করে তার কাছ থেকে ৫০টাকা নেন। এ সময় অদূরে কর্তব্যরত আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়নের এক সদস্য তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাকে জোর করেই বিমানবন্দর এপিবিএন অফিসে নিয়ে আসা হয়। এসময় টার্মিনালের ভেতর তাকে মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মী খায়রুল ইসলাম। এদিকে এপিবিএন অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে দোষ স্বীকার করেন নিরাপত্তা সদস্য খায়রুল ইসলাম।
এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা বিমানবন্দরের পরিচালক গ্র“প ক্যাপ্টেন কে এম জাকির হোসেনের রুমে গিয়ে তাদের ক্ষোভের কথা জানান। একই সময়ে তারা কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়ে বিমানবন্দরের বহির্গমন বিভাগের প্রতিটি গেট বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ এ অচলাবস্থার পর বহির্গামী যাত্রীরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন। এ পরিস্থিতিতে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে বদানুবাদ শুরু হয়।
অন্যদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমান বন্দরের পরিচালকের নির্দেশে সিভিল এভিয়েশন নিরাপত্তা শাখার ডিএসও ফরিদ উদ্দিন এপিবিএন অফিসে ছুটে যান। তিনি নিরাপত্তাকর্মী খায়রুল ইসলামকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এর পর-পরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহচজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পরিাচলক গ্র“প ক্যাপ্টেন জাকির হোসেন বলেন, ‘অনেক সময় এ ধরণের সহযোগিতার জন্য যাত্রীরা খুশি হয়ে বকশিষ দিয়ে থাকে। এখন এটি দেখার বিষয় ওই যাত্রী নিরাপত্তকর্মীকে বকশিষ দিয়েছেন না ঘুষ দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘সিভিল এভিয়েশনের কোনো সদস্য যদি অপরাধ করে থাকে সেক্ষেত্রে আটকের পর আমাদের কাছে হস্তান্তর করা কথা। তদন্ত সাপেক্ষে আমরাই ব্যবস্থা নিতে পারতাম। আজ বিষয়টি নিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ন ও সিভিল এভিয়েশনের মধ্যে বৈঠকের কথা রয়েছে বলে তিনি জানান।
আরও খবর