সালমান শাহ’র মৃত্যু; হত্যা নাকি আত্মহত্যা!

ঢাকাindex 1_81493 : সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে, গত ১৯ বছর ধরে খোঁজ চলছে এই রহস্যের। হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

হত্যার অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটি জানা গেছে। তবে, পরিবার তা মানতে নারাজ।

আর, বাদীর আইনজীবী বলছেন, র‌্যাবের তদন্ত স্থগিত করার বিষয়টি হচ্ছে নজিরবিহীন।

বাংলা সিনেমায় সালমান শাহের আবির্ভাব ধূমকেতুর মতোই। নাইট কুইন ফুলের মতো সুবাস বিলিয়ে হারিয়ে গেছেন তিনি অনন্ত লোকে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে নিজ বাসায় মেলে তার মরদেহ। যা হত্যা নাকি আত্মহত্যা, আজো ফয়সালা হয়নি।

৬ সেপ্টেম্বরই রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন, বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী। পরে, ১৯৯৭ সালে ২৪ জুলাই একে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। এতে অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগের তদন্ত করতে, সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

দু’বার সিআইডি এবং একবার গোয়েন্দা পুলিশ আত্মহত্যা বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সালমানের বাবার নারাজি আবেদনে ২০০৩ সালে শুরু হয়, বিচার বিভাগীয় তদন্ত। এক যুগ পর, গত বছর বলা হয়, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। যার বিরুদ্ধে এবার নারাজি আবেদন করেন, মা নীলা চৌধুরী। এতে চলতি বছরের ১০ ফেব্র“য়ারি মামলাটি র‌্যাবকে পুনঃতদন্ত কোরে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন, ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত।

কিন্তু, ১৯ এপ্রিল, রাষ্ট্রপক্ষের রিভিউ আবেদনে তদন্ত স্থগিত করেন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. কামরুল হোসেন মোল্লা। আরো শুনানির জন্য দিন ঠিক করা হয়, ২৭ জুলাই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, বাদী মারা গেলে, অপমৃত্যুর মামলা চলে না। অথচ দ-বিধিতে বলা আছে, বাদীর সই চেনে এমন যে কেউ মামলা পরিচালনা করতে পারবেন।

এই মামলায় রিজভী আহমেদ নামে এক ব্যক্তির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরও, বারবার আত্মহত্যা বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়াকে রহস্যজনক বলে মনে করেন মা নীলা চৌধুরী। রহস্য উদঘাটনে সরকারের সহযোগিতাও চান তিনি।

১৯৯৬ সালে ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা।

১৯৯৭ সালে ২৪ জুলাই অপমৃত্যুকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আত্মহত্যা বলে সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদন।

২০০৩ সালে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু।

২০১৪ সালে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবদন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি র‌্যাবকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ।

২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল তদন্ত স্থগিত।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.