রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু

greftar_737522754ঢাকা: রাজধানীতে শনিবার দিবাগত রাতে শুরু হয়েছে পুলিশের বিশেষ অভিযান। ওই রাতেই অভিযান পরিচালনার জন্য কমিশনারের লিখিত আদেশ ডিএমপির প্রত্যেকটি বিভাগ, থানায় পৌঁছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকেও অনুরূপ অভিযান পরিচালনার আদেশ দেয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ধরে চলবে এই বিশেষ অভিযান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্যের সত্যতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত কিছুদিনে রাজধানীতে অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশ এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বলেও পুলিশের একটি সূত্র জানায়।

পুলিশের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় বিভিন্ন বিভাগের থানাগুলোতে ফ্যাক্স ও ডাকযোগে কমিশনারের এই আদেশ পাঠানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৩ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত জি আর মামলা, সি আর মামলা, অস্ত্র, মাদক উদ্ধারের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

আর এই বিশেষ অভিযানের ফলাফল সকালের মধ্যে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের (উপ-পুলিশ কমিশনারদের) জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রামপুরা থানার ওসি আলমগীর ভুঁইয়া ও অপারেশন অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বিশেষ অভিযান পরিচালনার আদেশ পেয়েছেন বলে  জানান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্দেশ পাওয়ার পরপরই আমরা শনিবার রাতেই অভিযান শুরু করেছি।’

বাড্ডা থানার পরিদর্শক(তদন্ত) কামরুল ফারুক বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে আমরা এই আদেশ পাই। আদেশ পাওয়ার পরপরই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। ’

কাফরুল থানার ওসি আব্দুল কাউয়ুম  বলেন, ‘উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই থানা এলাকাতে অস্ত্র, মাদক উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে আমরা অভিযান শুরু করেছি।’

সার্বিক বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) ইব্রাহিম ফাতেমি বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা রাজধানীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শনিবার থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজধানীতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থাকি।

নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবেই আমাদের এই অভিযান।’

উল্লেখ্য, গত চার মাসে রাজধানীতে খুন হয়েছেন ৮০ জন। ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ১৩টি, দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে ৫২টি, অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৩৮টি, গাড়ি চুরি হয়েছে ২৯১টি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে মোট ৪৩৮টি।

এর মধ্যে জানুয়ারিতে খুন হয়েছেন ১৭ জন। ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৩টি, দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৭টি এবং গাড়ি চুরির ঘটনা ৬৭টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১১২টি। ফেব্রুয়ারি মাসে খুন হয়েছেন ২১ জন, ডাকাতি হয়েছে ২টি, দস্যুতা হয়েছে ১৩টি, অপহরণ হয়েছে ১০ জন, গাড়ি চুরি হয়েছে ৮০টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৯৯টি। মার্চে খুন হয়েছেন ২১ জন, ডাকাতি হয়েছে ২টি, দস্যুতা হয়েছে ১৮টি, অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৩ জন, গাড়ি চুরি হয়েছে ৭৬টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১২২টি। এপ্রিল মাসে খুন হয়েছে ২১ জন, ডাকাতি হয়েছে ৬টি, দস্যুতা হয়েছে ১০টি, অপহরণ হয়েছে ৮ জন, এবং গাড়ি চুরি হয়েছে ৬৮টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১১৫টি।

এছাড়াও চলতি মে মাসেই রাজধানীর পল্লবী, রামপুরা, ভাটারা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ি, মোহাম্মদপুর এলাকায় বেশ ক’টি নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পাশাপাশি রাজধানীর পুরান ঢাকা এলাকায় বড় ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ২৪ মে রোববার মগবাজার এলাকায় দুপুরের প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে ৩৩ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.