ইয়েমেনে সউদি বিমান ভূপাতিত

vgfসউদি বাহিনী এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে গত শনিবার রাতে ব্যাপক গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে। ওই গোলাগুলিতে হারাদাহ বর্ডার ক্রসিং ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। বিশ্বের দুটি প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বর্ডার ক্রসিং। এটি দিয়ে দু’দেশের মধ্যে প্রতিদিন প্রচুর যাত্রী এবং মালামাল পারাপারের কাজ চলত। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে খবরে জানানো হয়, দুই পক্ষই পরস্পরের প্রতি প্রচুর ট্যাঙ্ক এবং কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সউদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।অপর খবরে বলা হয়, ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে সউদি আরবের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সানায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস হুতিদের এ দাবি অস্বীকার করলেও সউদি আরব এ ব্যাপারে নীরব রয়েছে। ইয়েমেনের আরবি ভাষার স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরা জানিয়েছে, সা’দা প্রদেশের কাতাফ জেলায় বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে। হুতি কর্মকর্তারা জানান, একটি এফ-সিক্সটিন জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। তারা ফেসবুক ও টুইটারে বিধ্বস্ত বিমানটির একাধিক ছবিও পোস্ট করেছে যাতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে রাজকীয় সউদি বিমান বাহিনী (রয়্যাল সউদি এয়ার ফোর্স)।তবে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এটি এফ-সিক্সটিন জঙ্গি বিমান নয়, এফ-ফিফটিন। সিএনএন জানায়, সউদি আরবের হাতে এফ-সিক্সটিন জঙ্গিবিমান নেই, আছে এফ-ফিফটিন। এর আগে, রবিবার সকালের দিকে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশের বানি হারিস জেলায় একটি এফ-১৬ জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে হুতিরা। ইয়েমেনের আল-দাইলামি বিমান ঘাঁটিতে কয়েক দফা হামলার চালানো পর এটি ভূপাতিত হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরও এতে থাকা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র অবিস্ফোরিত অবস্থায় ছিল। এর আগে গত ১১ মে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা মরক্কোর একটি বিমান ভূপাতিত করে।এমন এক সময়ে এ হামলা চালানো হল, যখন আটসপ্তাহের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন জেনেভা আলোচনা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছে নির্বাসিত ইয়েমেন সরকার। আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠেয় জেনেভা বৈঠকে সউদি আরবে নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদি যোগ দেবেন কীনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র গত শনিবার জানিয়েছেন, বৈঠকের আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ এবং হুতি বিদ্রোহীদের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, শান্তি আলোচনার আগে তারা ইয়েমেনে গত সেপ্টেম্বরের আগে দখলকৃত শহরগুলো থেকে সরে যাবে। তবে তাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। তারা জেনেভা বৈঠকে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে। শান্তি আলোচনা শুরু করার আগে তারা অস্ত্রবিরতি দাবি করেছে। জাতিসংঘে বৈঠক স্থগিতইনকিলাব ডেস্ক : ইয়েমেন ইস্যুতে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করার বিষয়ে জাতিসংঘের নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত হয়ে গেছে। ইয়েমেনে যখন সউদি সরকারের বর্বর আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে তখন এ বৈঠক স্থগিত হলো। আগামী ২৮ মে বৈঠকটি অনুষ্ঠানের কথা ছিল। বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব বান কি মুন বলেছিলেন, ইয়েমেন সংকটের সমাপ্তি টানতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ২৮ মে শান্তি আলোচনা শুরু হবে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বৈঠক স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে গত রোববার জানিয়েছেন, আমি নিশ্চিত করতে পারি যে, বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকে কোন পক্ষ উপস্থিত থাকবে আর কারা থাকবে নাÑ এমন সংশয় ছিল আগে থেকেই। তবে, ইয়েমেনের পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, তার দাবি পূরণ না হলে তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না। ইয়েমেনের হুথি গেরিলারাও বলেছে, সউদি আরবের আগ্রাসন বন্ধ হলেই কেবল তারা জাতিসংঘ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। গত ২১ মে জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মুখপাত্র মুহাম্মাদ আব্দুস সালাম বলেছেন, ইয়েমেনের জনগণের ওপর যতক্ষণ পর্যস্ত সউদি আরবের বিমান হামলা চলছে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা শান্তি আলোচনার প্রস্তাব মেনে নিতে পারেন না। তিনি আরো বলেছেন, আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে কিংবা দখল করা শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে তারা চাপ দেবেন না।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.