বসুন্ধরা শপিংমলে চোরাই মোবাইল সেটের দোকান

rab2-ovijanরাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের ‘নিউ এশিয়ান টেলিকম’-এ অভিযান চালিয়ে ৭১টি চোরাই মোবাইল সেটসহ দু’জনকে আটক করেছে র‌্যাব সদস্যরা। তারা হলেন— এম আর বশির (৪৪) ও মো. জামাল হোসেন (৩০)।

বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের মতো জায়গায় চোরাই সেট বিক্রি হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তারা দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

‘নিউ এশিয়ান টেলিকম’-এ অভিযান শেষে সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম মাসুদ রানা। তিনি বলেন, তেজগাঁওয়ের পান্থপথ বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের প্রথম লেভেলের ব্লক-বি ১১ নম্বর দোকান ‘নিউ এশিয়ান টেলিকম’-এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় আটকরা জব্দ করা মোবাইলগুলোর প্রকৃত কাগজ দেখাতে পারেননি। মালিক সাইফুল ইসলাম সোহেল (৩৪) দোকানে না থাকায় তাকে আটক করা যায়নি। তার মোবাইলে কল করে আসতে বলা হলেও তিনি আসেননি। আটক বশির সাইফুলের বড় ভাই এবং জামাল ওই দোকানের কর্মচারী।

তিনি আরও বলেন, ২ ফেব্রুয়ারি মাহবুবুল হাসান নামে এক ব্যবসায়ী র‌্যাবের কাছে তার আইফোন-সিক্সপ্লাস ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। র‌্যাব ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল স্টেশন ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর ট্রেস করে এবং তদন্তের মাধ্যমে জানতে পারে উইলিয়াম এইচ. ডেরেনজার নামে এক বিদেশী নাগরিকের কাছে ওই আইফোন-সিক্সপ্লাস সেটটি আছে। উইলিয়ামের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি নিউ এশিয়ান টেলিকম থেকে ৬৬ হাজার টাকা দিয়ে সেটটি কিনেছেন। বিদেশী নাগরিকের কাছে মোবাইল সেটটি বিক্রির কথা নিউ এশিয়ান টেলিকমের কর্মচারীরাও স্বীকার করেন।

মাসুদ রানা বলেন, বেশি লাভের আশায় ‘নিউ এশিয়ান টেলিকম’র মালিক চোরাই বা ছিনতাই হওয়া মোবাইলের সেট অল্প দামে কিনতেন। সেটগুলোর প্যাকেটও হুবহু নকল করা হতো। আইএমইআই নম্বরের নকল স্টিকার বানিয়ে তা প্যাকেটের গায়ে লাগিয়ে নতুন মোবাইল হিসেবে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হতো। মোবাইল সেটগুলো আসল ও কম দামের হওয়ায় ক্রেতারা প্রলুব্ধ হয়ে তা কিনে ফেলতেন।rab2-ovijan2

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউ এশিয়ান টেলিকমের এক কর্মচারী বলেন, দোকানের মালিক সাইফুলের বন্ধু টুটুলের কাছ থেকে আইফোন-সিক্সপ্লাস মোবাইল সেটটি নেওয়া হয়। দুই সপ্তাহ আগে টুটুল এসে জানায়, আইফোন-সিক্সপ্লাস সেটটি চালাতে তার খুব সমস্যা হচ্ছে। এর অ্যাপস্ তার বুঝতে অসুবিধা হয়। তাই তিনি সেটটি দিয়ে স্যামসং এর একটি সেট নিয়ে যান।

ঘটনা প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর (স্কুল অব বিজনেস) উইলিয়াম এইচ ডেরেনজার বলেন, আমি ১৭ মে নিউ এশিয়ান টেলিকম থেকে একটি মোবাইল সেট কিনি। সেটটি আমার খুব পছন্দ হয়। সেটটি খুব ভালো চলছিল। রবিবার আমার কাছে র‌্যাবের একটি কল আসে। তারা আমার কাছে জানতে চায় আমি কোনো চোরাই সেট কিনেছি কি না। আমি তখন মোবাইল কেনার বৈধ কাগজপত্র তাদের দেখাই এবং নিউ এশিয়ান টেলিকম থেকে মোবাইল সেটটি কিনেছি বলে জানাই।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.