এভিয়েশন রিপোর্ট : আগামী এক মাসের মধ্যে মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে বিভিন্ন দেশে আটকেপড়া বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।
তিনি বলেন, ‘মানবপাচার বন্ধ করতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। পাচার হওয়া বাংলাদেশীদের এক মাসের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, পাচারের শিকার বাংলাদেশীদের সহায়তা করতে দূতাবাসগুলো সক্রিয় রয়েছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশী মিশনের রাষ্ট্রদূতরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসহায় মানুষদের সহায়তা দিচ্ছেন।
মো. শহীদুল হক আরও জানান, মানবপাচারের পেছনে দেশী-বিদেশী কিছু ফ্যাক্টর আছে যা আয়ত্তের বাইরে। এর সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় জড়িত। মানবপাচারের পেছনে দরিদ্রতা মূল কারণ নয়। আর এই সমস্যা সমাধান করা বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভবও নয়। আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক উভয়ভাবে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে মানবপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত একটি সমাঝোতা স্মারকে সই করা হবে। এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ চলছে। তারাও আঞ্চলিকভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ানমান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তাদের ওখানে ২০০ বাংলাদেশী রয়েছে। আমরা তা ভেরিফাই করছি। এরপর আরও ৭০০ বাংলাদেশীর কথা মিডিয়ায় দেখেছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমার সরকার এখনো ৭০০ বাংলাদেশীর বিষয়ে কিছুই জানায়নি।’
মিয়ানমারে ২০০ বাংলাদেশী থাকার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা ভেরিফাই করে দেখছে। মিয়ানমারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আরও ৭০০ বাংলাদেশীর বিষয়ে মালয়েশিয়া থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুত্র বলছে, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মানবপাচারের শিকার ১০১৮ বাংলাদেশীকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে মিয়ানমারে ২০০ জন, থাইল্যান্ডে ১৩৮ জন, মালয়েশিয়ায় ২২ জন এবং ইন্দোনেশিয়ায় দুই ধাপে ৬৫৮ জন বাংলাদেশীকে শনাক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশন।
মানবপাচার নিয়ে বিগত ১৫ দিন ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী গত এক মাসে পাচারের শিকার সাত হাজারের মতো মানুষ তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ মানুষকে বাংলাদেশী হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। সংখ্যায় এর পরিমাণ প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০-এর মতো। মূলত মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ড- এই তিনটি দেশেই পাচারের শিকার বেশিরভাগ মানুষ রয়েছেন।
