বিমানবন্দরে শুল্ক না দিয়ে পণ্য ছাড়ানোর চেষ্টা

download (1)হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টম হাউস থেকে শুল্ক না দিয়ে জোর করে পণ্য খালাস করে নেওয়ার চেষ্টা থেমে নেই। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত বছরের মে মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এ ধরনের তিনটি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর ঢাকা কাস্টম হাউসে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইয়াকুত জাহিদ গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৫ জানুয়ারি শুল্ক পরিশোধ না করে বিমানবন্দরের কুরিয়ার গেট দিয়ে পণ্য বের করার চেষ্টা করেন নাসিমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক নজরুল ইসলাম। মামলার আগে ও পরে দুই দফা সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, আসামিরা শুল্ক কর্মকর্তাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
মামলার অপর আসামিরা হচ্ছেন জিয়াউর, নয়ন, মানিক, ইয়াকুব ও কামরুজ্জামান। র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যা ব) ইয়াকুব ও কামরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করলেও নজরুল, জিয়াউর, নয়ন ও মানিক পলাতক রয়েছেন।
শুল্ক কর্মকর্তারা জানান, নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর থানা এলাকায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। এ ছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি লিজাউর রহমান বিমানবন্দর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। নাসিমা এন্টারপ্রাইজের কর্মচারী মানিক এবং কামরুজ্জামান তাঁদের সহযোগী।
ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার লুৎফর রহমান বলেন, ‘হুমকি দিয়ে আমাদের দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সহকারী কমিশনার (এসি) শহীদুজ্জামান সরকার জানান, ২৫ জানুয়ারির ঘটনার পর পণ্য খালাসের গেটে জবরদস্তির ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৯ জন থেকে বাড়িয়ে ২৬ জন করা হয়েছে।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মজিবর রহমান। তিনি বলেন, পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব নিয়ে দেখছে। নজরুল বর্তমানে ঢাকার বাইরে রয়েছেন। তবে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করা হলে ঢাকা কাস্টম সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মো. ফরিদ বলেন, শুল্ক কর্মকর্তাদের ওপর হামলার বিষয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ তাঁদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
এর আগে আরেক মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ১০ আগস্ট দুপুরে বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্স কুরিয়ার ইউনিট থেকে পণ্য ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রিয়াদুল ইসলাম ছাড়াও পাঁচ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে মারধর করেন। তাঁরা তিনটি ট্রলিতে করে ১৫টি কার্টন ছিনিয়ে নিয়ে যান। মামলায় যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত বদরুল আলম শ্যামল ও প্রিন্সকে আসামি করা হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর শ্যামল ও প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব-১-এর একটি দল। তবে দুজনই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মামলার ৬ নম্বর আসামি বিমানবন্দর থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইয়াসিন মিয়াকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এর তিন মাস আগে আরেক মামলায় বলা হয়, গত বছরের ১৮ মে একইভাবে বিমানবন্দরের কুরিয়ার সার্ভিস এলাকা থেকে এক কোটি টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং সাড়ে সাত কোটি টাকার ওষুধের চালান শুল্ক পরিশোধ না করে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বাধা দেওয়া হলে শ্যামলের সহযোগী আসাদ ও লেলিন দলবল নিয়ে সহকারী কমিশনার শহীদুজ্জামান সরকারের ওপর হামলা চালায়। তখন পুলিশ আসাদ ও লেলিনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

সূত্রঃপ্রথম আলো

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.