‘নিজের শরীর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হোন’

‘নিজের শরীর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হোন’

ভারতের অসংখ্য নারীর ‘আইডল’ কারিনা কাপুর খান। বলিউডের জনপ্রিয় এই তারকার অভিনীত চরিত্রগুলো দারুণ পছন্দ করেছেন দর্শক। তেমনি অ্যাকশন আর কাটের বাইরের কারিনা কাপুর খানকেও সাদরে গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, তাঁর যতগুলো চেহারা, এর সবই ভালোভাবে নিয়েছেন দর্শক।

গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে কারিনা কাপুরের ভাগ্য ভালোই বলতে হবে। যখন তিনি জিরো ফিগারের ছিলেন, তখন মানুষ তাঁর শারীরিক কাঠামোর সুনাম করেছে। তাঁর মতো হতে চেয়েছে। আবার যখন তিনি গর্ভাবস্থায় ‘ভিরে ডি ওয়েডিং’ করেছেন, সেটিও ভালোভাবে নিয়েছেন দর্শক।

গর্ভাবস্থায় ভারতের মুম্বাইয়ে ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে ক্যাটওয়াক করেছেন। প্রথমবারের মতো ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের পোশাকে র‍্যাম্পে হাঁটেন কারিনা কাপুর খান। পুরোটি ব্যাপারটি নিয়ে খুবই আবেগপ্রবণ ছিলেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভেজা ভেজা চোখ নিয়ে বলেছিলেন, ‘কেবল আমি নই, আমার অনাগত সন্তানও জন্মের আগেই র‍্যাম্পে হাঁটল। এ এক অন্যরকম অনুভূতি।’

এমনকি বাচ্চা জন্ম দিয়ে মাত্র দুই মাস পরই ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের শেষ সন্ধ্যায় হেঁটেছেন শো স্টপার হিসেবে। তখন ডিজাইনার আনিতা ডোংরের শোস্টপার ছিলেন তিনি। কিন্তু সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মুটিয়ে যাওয়া ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন কানের রেড কার্পেটে হাঁটলে তা নিয়ে চলে সমালোচনার ঝড়।

সব মিলিয়ে কী হলে মানুষ সুন্দর হয়, তার রয়েছে অসংখ্য মানদণ্ড। বিশেষ করে তরুণী নারীরা ভুগছেন ‘বডি ডিসমর্ফিয়া’তে। সহজভাবে বললে, কিছুতেই যেন নিজের শরীর নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না, এ অবস্থাকে বলে বডি ডিসমর্ফিয়া। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘাড়ের ওপর চেপে বসায় বডি ডিসমর্ফিয়া চলে গেছে ভিন্নমাত্রায়। বিষয়টি নিয়েই ফিল্মফেয়ারের সঙ্গে বললেন কারিনা কাপুর খান।

নিজের শরীরের আকার, আকৃতি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে না পারা, এই খুঁতখুঁতে স্বভাব নিয়ে কারিনা কাপুর খান বলেন, এটা একেবারেই ফালতু ধারণা। কেউ যদি নিজেকে ভালোবাসতে না পারে, সেটা পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার। ইনস্টাগ্রাম, টুইটারসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তো কেবল বিনোদনের উৎস। সেখানে কেউ নিজের জীবনকে ফেলে দিতে পারে না। কারও জীবন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ধারণ করে দিতে পারে না। নিজের শরীরের ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা ও বিশ্বাস থাকা জরুরি।

মোদ্দা কথা, নিজের শরীর যেমনই হোক, সেটা সুন্দর—এই বিশ্বাস থাকতে হবে। যখন একজনের ভেতর এই বিশ্বাস থাকবে, তখনই কেবল সে নিজেকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে পারবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.