সৌদির মাল্টিপল ভিসা অপব্যবহার করছে হজ এজেন্সিগুলো!

Visa-Passportএভিয়েশন নিউজ: বাংলাদেশী বেসরকারি কতিপয় হজ এজেন্সি ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসা নিয়ে অপব্যবহার করায় সৌদি ওজারাতুল হজ চরমভাবে ক্ষুব্ধ। ২০১৩ সালের হজ মৌসুমে হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহারের অনুরোধে ঢাকাস্থ সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ নাসের আল-বুসাইরী’ হজ এজেন্সিগুলোকে পূর্ব-নির্ধারিত ৩ মাসের পরিবর্তে ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসা প্রদানে সম্মত হন। রাষ্ট্রদূতের নির্দেশে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ ৬শ’ ২৮টি হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধিকে হজের কাজে আঞ্জাম দেয়ার জন্য ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসা প্রদান করেন।

গত বছর হজের কার্যক্রম সম্পন্ন হবার পরেও কতিপয় অসাধু হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধি বিধি বর্হিভূতভাবে উক্ত মাল্টিপল ভিসাকে অপব্যবহার করে পুনরায় সউদী আরবে যাতায়াত করে। এতে সউদী ওজারাতুল হজ কর্তৃপক্ষ চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন। ওজারাতুল হজ কর্তৃপক্ষ মাল্টিপল ভিসা অপব্যবহারকারী হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধিদের ছবি, মাল্টিপল ভিসা সংবলিত পাসপোর্টের ফটোকপি ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের কাছে পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার হজ এজেন্সিগুলোকে ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসা দেয়ার পরিবর্তে মাত্র ১ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দিতে সম্মত হয়। হজ এজেন্সিদের মাল্টিপল ভিসা ইস্যু সংকট নিরসনের লক্ষ্যে হাব সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম বাহার হাবের ইসি কমিটি’র সদস্যদের নিয়ে সম্প্রতি সউদী রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ নাসের আল-বুসাইরী’র সাথে তার দপ্তরে এক বৈঠকে মিলিত হন।

রাষ্ট্রদূত বুসাইরী হাব নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্বের কোনো দেশের হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধিদের ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসা দেয়ার নজির নেই। একমাত্র হাবের অনুরোধে বাংলাদেশী হজ এজেন্সিগুলোকে ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসা দেয়া দিয়েছিলাম। কিন্ত অত্যান্ত দুঃখের বিষয় কতিপয় হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধিরা উল্লেখিত মাল্টিপল ভিসাকে অপব্যবহার করে হজের পরেও সৌদি আরবে যাতায়াত করেছে।

এটা খুবই গর্হিত কাজ। রাষ্ট্রদূত হাব নেতৃবৃন্দকে সাফসাফ জানিয়ে দেন ওজারাতুল হজ-এর দিন নিদের্শনা ছাড়া হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধিদের মাল্টিপল ভিসা ইস্যু সম্ভব নয়। হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহার হাজীদের সেবা নিশ্চিতকল্পে হজ এজেন্সিগুলোর অনুকূলে ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসা ইস্যু’র জোর দাবি জানান।

ওজারাতুল হজ কর্তৃপক্ষের নিদের্শে ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাস চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে অংশ নিতে ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসার পরিবর্তে ৭৫ দিনের মাল্টিপল ভিসা ইস্যু করছে। এ নিয়ে হজ এজেন্সিগুলো চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাস কর্তৃপক্ষ ২৭৬টি হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধিকে ৭৫ দিনের মাল্টিপল ভিসা দিয়েছে।

এসব মাল্টিপল ভিসা নিয়ে অনেকেই মক্কা-মদিনায় হাজীদের বাড়ি ভাড়া করতে সউদী আরবে যাচ্ছেন। মক্কা-মদিনায় হাজীদের বাড়ি ভাড়া করার জন্য যাচাই-বাছাই, মক্কায় প্রত্যেক হজ এজেন্সি’র মোনাজ্জেম-এর নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলা এবং বাড়ি’র মালিকের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে বারকোড নিয়ে দেশে আসতে হবে হজ এজেন্সিগুলো’র মালিক-প্রতিনিধিদের।

পরে হজ ফ্লাইট শুরু হলে হজযাত্রীদের নিয়ে পুনরায় সউদী আরবে যেতে হবে হজ এজেন্সিগুলোর মালিক-প্রতিনিধিদের। এতে ৭৫ দিনের মাল্টিপল ভিসায় হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধিদের হাজিদের পরিপূর্ণ সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। প্যান ব্রাইট ট্রাভেলসের মালিক রুহুল আমিন মিন্টু এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে হজ এজেন্সিগুলোর মাল্টিপল ভিসার মেয়াদ কমপক্ষে ৪ মাস নির্ধারণের অনুরোধ জানান। হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহার ইনকিলাবকে বলেন, ইতিপূর্বে হজ এজেন্সিগুলোকে ৩ মাসের মাল্টিপল ভিসা দেয়া হতো। এসব মাল্টিপল ভিসাধারী হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধিদের হজ মওসুমে জেদ্দা আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর ও মদিনা আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ ছিল।

কিন্ত অনেক হজ এজেন্সি মালিক হজ মওসুমে সউদী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাল্টিপল ভিসা নিয়ে জেদ্দা ও মদিনা বিমান বন্দরে গিয়ে অবতরণ করেন। জেদ্দা বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব হজ এজেন্সি’র অনেককেই ডিপোটি করে ঢাকায় ফেরত পাঠায়। এক প্রশ্নের জবাবে হাব সভাপতি বলেন, যারাই ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসাকে অপব্যবহার করে হজের পরেও সউদী আরবে যাতায়াত করেছেন তারা অশোভনীয় কাজ করেছেন।

তিনি হজ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে আঞ্জাম দিতে সউদী আরব সফরকালে সউদী সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য সকল হজ এজেন্সি’র মালিক-প্রতিনিধিদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

– শামসুল ইসলাম

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.