আগামী ১৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপিপন্থি অনেক সংগঠন ‘সহযোগী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চায়। এ জন্য সংগঠনের শীর্ষ নেতারা দলীয় প্রধানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। মূলত কাউন্সিলকে সামনে রেখেই এসব সংগঠন তৎপর হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজস্ব ব্যানারে নানা দিবস কিংবা নানা বিষয় নিয়ে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও সেমিনারের আয়োজন করে আসছে। এসব অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকছেন। তবে এসব সংগঠন এখন পর্যন্ত বিএনপি কর্তৃক স্বীকৃত নয়।
বিএনপির নয়টি অঙ্গ সংগঠন রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল নামে রয়েছে দুটি সহযোগী সংগঠন।
বিএনপিপন্থি এসব সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এখন দলটির হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকৃষ্ট করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। তারা বিএনপির ‘সহযোগী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা এবং দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-কমিটিসহ বিভিন্ন দপ্তরে নিজ নিজ সংগঠনের প্রোফাইল এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য-প্রমাণ জমা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ২০ থেকে ২৫টি সংগঠন তাদের প্রোফাইল এবং কার্যক্রমের তথ্য জমা দিয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতা-ই মনে করেন, এক-এগারোর প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে বিএনপির সমর্থক এই সংগঠনগুলোর অবদান মুছে ফেলার মতো নয়। কেননা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের সেই সময়েও অনেক বাধা মোকাবেলা করে তারা বিএনপির পক্ষে অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তাদের যদি ন্যূনতম সম্মান দেয়া না যায়, তাহলে দলের দুর্দিনে আর কেউ দায়িত্ব পালন করবে না।
বিএনপির বিগত শাসনামলে দলটির রাজনৈতিক আশ্রয়ে জাতীয়তাবাদের ব্যানারে বহু সংগঠন প্রতিষ্ঠা হলেও দলের দুর্দিনে তাদের অনেকে আবার হারিয়েও যায়। তবে এক-এগারোর সময় আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ’র নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা ফোরাম, হুমায়ূন কবির বেপারীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক একাডেমিসহ ৩/৪ টি সংগঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক একাডেমি’র সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির বেপারী বলেন, ‘গত ১৮ বছর ধরে এই সংগঠনের ব্যানারে জাতীয়তাবাদী আদর্শে কাজ করে যাচ্ছি। এক-এগারো পরবর্তী বিএনপি ও জিয়া পরিবারের দুর্দিনে শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এ সংগঠনের ব্যানারে কাজ করেছি। আমরা দেশনেত্রীর কাছ থেকে শুধুই স্বীকৃতি চাই। আমার বিশ্বাস, তিনি তা দেবেন।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং জাতীয়তাবাদের নাম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা সংগঠনের সংখ্যা এখন শতাধিক হলেও মাত্র ২০ থেকে ২৫টির কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা খুঁজে পাওয়া যায়।
