চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আটকে থাকা ৪০০ টন পণ্যের ড্যামারেজ চার্জ এসেছে পণ্যমূল্যের দ্বিগুণ

airport-680x0-c-defaultচট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে গত চার মাসে প্রায় ৬০০ টন পণ্য বিভিন্ন আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। তবে গত মাসে এ ৬০০ টন থেকে প্রবাসীরা প্রায় ২০০ টন পণ্য খালাস নিলেও আরো ৪০০ টন পণ্য আটকে আছে। যথাসময়ে না নেয়ার কারণে এই টন পণ্যের ড্যামারেজ চার্জ করা হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। যা পণ্য মূল্যের দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। ফলে এসব পণ্য খালাস করতে পারছেন না প্রবাসীরা। আইনি জটিলতায় আটকে থাকা পণ্যের ড্যামারেজ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন ইউএই কার্গো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ (ইউএই) নেতারা।

গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস কাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠন দু’টির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউএই কার্গো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠনের সভাপতি মো: আনোয়ারুল আশরাফ চৌধুরী। তিনি বিমানবন্দরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা পণ্যের চক্রবৃদ্ধি হারে ড্যামারেজ চার্জ মওকুফ করে ওয়্যার হাউজের নিয়মিত চার্জ প্রতি ইউনিট সাড়ে ৩ টাকা আদায় করে প্রবাসীদের মালামাল খালাসের সুযোগ করে দেয়ার দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দুবাই, সৌদি-আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে বাংলাদেশী প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী বিভিন্ন পেশায় কাজ করে যাচ্ছেন। অধিকাংশ প্রবাসী নি¤œ আয়ের হওয়ার কারণে প্রায়ই দেশে আসতে চাইলেও তারা আসতে পারেন না। তিন-চার বছরের মধ্যে মাত্র একবার তারা দেশে আসার সুযোগ পান। তাদের মধ্যে অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনম ব্যক্তি। তাই পরিবারের চাহিদা মোতাবেক কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য-দ্্রব্য দেশে পাঠান। কিন্তু চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকার কারণে চার মাস ধরে প্রবাসীদের মালামালগুলো কাস্টমস কর্তৃপ খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অনেক সময় এসব পণ্য আটকে থাকার কারণে চক্রবৃদ্ধি হারে ডেমারেজ চার্জ করা হচ্ছে। যার ফলে অনেকেই চার্জ বেশি হওয়ার কারণে এসব পণ্য খালাস করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই ড্যামারেজ চার্জ মওকুফ করে ওয়্যার হাউজের নিয়মিত চার্জ প্রতি ইউনিট সাড়ে ৩ টাকা আদায় করে প্রবাসীদের মালামাল খালাসের সুযোগ করে দেয়া হোক।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের (ইউএই) সভাপতি সৈয়দ মোসলেহ উদ্দীন বলেন, স্বল্পআয়ের প্রবাসীরা তাদের রক্ত ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্্রার মাধ্যমে তাদের পরিবার পরিজনের জন্য পাঠানো মালামাল অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে খালাস করতে আর্থিকভাবে অপারগ। কারণ ওই সব মালামালগুলোর নিয়মিত শুল্ককর পরিশোধ করার পরও পণ্যমূল্যের চেয়ে বেশি ওয়্যার ডেমারেজ চার্জ দিতে হচ্ছে। চার্জ কম নিয়ে মালামাল খালাসের আবেদন করার পরও কাস্টমস কর্তৃপ কোনো সাড়া দেয়নি। অথচ যদি এসব মালামাল অতিদ্রুত খালাস না করে তাহলে নষ্ট হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউএই কার্গোর মো: সাধারণ সম্পাদক আজম তালুকদার, সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মো: খোরশেদুল আলম, প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস এম মঈনুল হোসাইন ও প্রচার সম্পাদক মো: আবু তাহের প্রমুখ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.