মালয়েশিয়া প্রবাসীরা নতুন পাসপোর্ট পাচ্ছেন না!

Malaysia-Towerএভিয়েশন নিউজ: মালয়েশিয়ায় কর্মরত পাঁচ লাখ বাংলাদেশির হাতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) দেয়ার কাজে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পাসপোর্ট আবেদন কেন্দ্রে গত মাসের প্রথমদিকে এমআরপির জন্য কয়েক হাজার বাংলাদেশি আবেদন করেন; কিন্তু বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরের গাফিলতির কারণে এখনো তাদের হাতে নতুন পাসপোর্ট পৌঁছেনি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে আগামী ২৪ নভেম্বরের পর তাদের বর্তমান পাসপোর্ট অকার্যকর হয়ে যাবে।

জানা যায়, এমআরপির বেশকিছু আবেদন বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। প্রথমে কয়েকটি পাসপোর্ট ছাপানো হলেও বাকিগুলো রহস্যজনক কারণে ছাপানো বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, এমআরপি নিয়ে যাতে কোন ভোগান্তি না হয় সেজন্য সরকার দূতাবাসের পরিবর্তে একটি বেসরকারি কোম্পানিকে এই দায়িত্ব দেয়। মালয়েশিয়ায় টাঙ্গাইল প্রবাসী আনসার আলীর পরিবারের একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, প্রবাসীরা মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট কেন্দ্রে গিয়ে তথ্যফরম পূরণসহ ছবি তুলে আসে। কোনপ্রকার হয়রানি ছাড়া খুব সহজেই ওই কেন্দ্র থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়। তিনি জানান, আনসার আলী গত তিনদিন ধরে পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য কেন্দ্রে গেলেও পাসপোর্ট পাননি। নতুন পাসপোর্ট নিয়ে এ মাসের মধ্যেই তার ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করতে না পারলে তাকে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে হবে।

গত কয়েকদিন ধরে পাসপোর্টের জন্য কুয়ালালামপুরে ঘুরছেন আবদুল জলিল। তিনি জানান, ৪ জুন তার পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়ার কথা। মিজানুর রহমানের পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়ার কথা গত ৩ জুলাই। এছাড়া মনিরুজ্জামানের পাসপোর্ট ২ জুলাই এবং জসিমের পাসপোর্ট ৩০ জুন ডেলিভারি দেয়ার কথা। গত কয়েকদিন ধরে তারা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে ঘোরাঘুরি করেছেন; কিন্তু পাসপোর্ট হাতে পাননি।

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমআরপি দেয়ার লক্ষ্যে গত মাসের শুরুতে আগ্রহীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ করে ছবি তুলে পাঠিয়ে দেয়া হয় বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিসে। এখান থেকে পাসপোর্ট ছাপিয়ে তা আবার কুয়ালালামপুরে পাঠানোর কথা।
জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে পাসপোর্ট অধিদপ্তর মালয়েশিয়ায় কর্মরত পাঁচ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের হাতে এমআরপি তুলে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের ডেটাএজ-আইপিপল কনসোর্টিয়ামকে নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি মে মাসের শেষ দিকে কুয়ালামপুরের কাছে শাহ-আলম তাদের প্রথম কার্যক্রম শুরু করে এবং জুনের মাঝামাঝি পেনাং ও জোহরবারুতেও কেন্দ্র চালু করে। তাদের সর্বমোট ৮টি কেন্দ্র খোলার কথা।

ডেটাএজ-আইপিপল কনসোর্টিয়ামের পরিচালক সৈয়দ আহসান হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনীহাই এই অবস্থার জন্য দায়ী। তিনি জানান, জুনের শুরুতে শতাধিক পাসপোর্টের তথ্য পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ছাপাখানায় পাঠালে সেগুলোর কয়েকটি ছাপানোও হয়েছে। সেসব পাসপোর্টের যথাযথ কারিগরি মান পরীক্ষা করে কৃতকার্য ও গ্রহণযোগ্য ঘোষণার পরও কেন বাকি হাজার হাজার পাসপোর্ট ছাপানো বন্ধ রেখেছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

এ ব্যাপারে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করলে মিশন প্রধান ও কাউন্সেলর আনিসুল হক জানান, বিষয়টির অতি জরুরি সুরাহা প্রয়োজন। তা না হলে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল মাবুদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শুধু মালয়শিয়াতেই নয়, এমআরপি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশেও বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির অধিকাংশই বর্তমানে এসব দেশে পুরোনো পাসপোর্ট নিয়ে বসবাস করছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.