স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট শাহ আমানত বিমানবন্দর

স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট শাহ আমানত বিমানবন্দর।

স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট এখন চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিমানের সিট-টয়লেট, লাগেজ, চার্জার লাইট, জুতাসহ যাত্রীর পেটের ভেতরেও মিলছে স্বর্ণ।

অভিযোগ আছে, বিমানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে কর্মরত কেবিন ক্রু এবং বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মেকানিক, কাস্টমস, সিভিল এভিয়েশন ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কতিপয় সদস্যের সহায়তায় চোরাকারবারিরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই রুটে অবৈধভাবে স্বর্ণ আনছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

এর মধ্যে কিছু কিছু স্বর্ণের চালান বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার তল্লাশিতে ধরা পড়লেও অধিকাংশ চালানই নিরাপদে বের হয়ে যাচ্ছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে ২২০ কেজি অর্থাৎ সাড়ে ৫ মণ স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এ সময় স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত বেশ কয়েকজন যাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, স্বর্ণের অবৈধ প্রবেশ আগের তুলনায় অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হলেও বন্ধ করা যায়নি। প্রায়ই বিভিন্ন ফ্লাইটে স্বর্ণের চালান আসছে। স্বর্ণ চোরাচালানে কেবল শুল্ক ফাঁকি দেয়াই নয়, অন্যান্য অপরাধও সংশ্লিষ্ট থাকে। যেহেতু স্বর্ণের একটি আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য রয়েছে, সেহেতু নানা অপরাধের সঙ্গেই এই স্বর্ণের অবৈধ লেনদেনের কানেকশন থাকে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গেল বছর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি স্বর্ণের চালান ধরা পড়ে। এর মধ্যে যাত্রীসহ সাতটি স্বর্ণের চালান আটক করা হয়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পতেঙ্গা থানায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের সোপর্দ করে মামলা করা হয়। তবে পতেঙ্গা থানা পুলিশের দুর্বল তদন্তের কারণে এ পর্যন্ত স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত গডফাদারদের একজনকেও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

শুধু গ্রেফতার বহনকারীকেই আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, স্বর্ণসহ গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি শুধু বহনকারী। এসব স্বর্ণ যারা পাঠাচ্ছে ও আনছে, সেই মূলহোতাদের গ্রেফতার করা না গেলে বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়। কেননা একজন বহনকারী আটক হলে অন্যজনের মাধ্যমে তারা স্বর্ণ পাঠাচ্ছে।

বিমানবন্দরে দায়িত্বরত চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার রিয়াদুল ইসলাম বলেন, বিমানবন্দরে কাস্টমসসহ অন্যান্য সংস্থার তৎপরতায় চোরাচালান অনেক কমে এসেছে। গত বছর শাহ আমানত বিমানবন্দরে ২২০ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ব্যাগেজ তল্লাশি করে ১৭৯ দশমিক ৩৮৬ কেজি এবং আসামিসহ প্রায় ৪১ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে পতেঙ্গা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

গেল বছর ২ অক্টোবর ৩৬টি স্বর্ণের বারসহ ইলিয়াছ নামে বাংলাদেশ বিমানের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। শরীরে লুকিয়ে এসব স্বর্ণ বিমানবন্দর পার করিয়ে দেয়ার সময় তিনি ধরা পড়েন।

এ ঘটনায় করা মামলায় তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন পতেঙ্গা থানা পুলিশ। তবে অভিযোগপত্রে উঠে আসেনি এসব স্বর্ণের উৎস কিংবা গন্তব্য। পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, এ মামলার অভিযোগপত্রে গ্রেফতার ইলিয়াছকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরেও বেশ কয়েকটি স্বর্ণের চালান শাহ আমানত বিমানবন্দরে ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা তিন যাত্রীর কাছ থেকে ১ কেজি ৫৩ গ্রাম ওজনের ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। ১৯ জানুয়ারি এয়ারক্রাফট গেটের কাছে বোর্ডিং ব্রিজ থেকে ৬ কেজি ৮৪ গ্রাম ওজনের ৫২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আবুধাবি থেকে আসা যাত্রী মোহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিনের জুতায় লুকানো ৪টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই টিম। ১৩ জানুয়ারি শারজাহ থেকে আসা যাত্রী মোহাম্মদ মোরশেদের পেট থেকে এক কেজি ওজনের ৮টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.