ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের কাজ পুরোদমে শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডলাইন এভিয়েশন সিকিউরিটি লিমিটেড। গত কাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন কর্মী ঢাকায় পৌছেই কাজে যোগ দিয়েছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিদায়ী চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হক গত কাল বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, রেডলাইনের আগে থেকে নয়জন ঢাকায় ছিল। গতকাল আরও ২০ জন এসে যুক্ত হয়েছে। এই ২৯ জনের মধ্যে ১৪ জন অ্যাভিয়েশন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। বাকি ১৫ জন স্কেনিং মেশিন পরিচালনায় দক্ষ কর্মী।
এম সানাউল হক বলেন, রেডলাইনের কর্মীদের কাজের ৯৫ শতাংশ হবে প্রশিক্ষণের কাজ। তাঁরা এখন কার্গো কমপ্লেক্স ও টার্মিনাল ভবনে মালামাল স্কেনিং ও বোডিং ব্রিজের ঢোকার পূর্ব মুহূর্তে যাত্রীদের নিরাপত্তা তল্লাশি তদারকি ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করছে।
যুক্তরাজ্যের তাগাদা দেওয়ার আগেই শাহজালালের নিরাপত্তা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে দাবি করে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত বছরের ২৫ অক্টোবর থেকে আমরা নিরাপত্তা ইস্যুতে কাজ করছি। নিজেদের উদ্যোগেই আমরা করেছিলাম।’ তিনি বলেন, মিশরে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে গত বছর ৩১ অক্টোবর। এরপর নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে শাহাজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। তার আগে ২৫ অক্টোবর সভা করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। ওইদিন দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় র্যাবের ডগ স্কোয়াড ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের দেওয়া পর্যবেক্ষণের সবগুলোর কাজই তারা ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছেন।
নিরাপত্তার ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে’ ঘাটতি থাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনে যুক্তরাজ্য ৮ মার্চ থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৩১ মার্চ দুই দেশের সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু না হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যুক্তরাজ্যগামী যাত্রীবাহী ফ্লাইটও নিষেধাজ্ঞায় পড়ার আশঙ্কায় ছিল। পরে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েক দফা আলোচনার পর করণীয় সম্পর্কে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের সঙ্গে ‘পরামর্শ সেবা’ নেওয়ার জন্য দুই বছরের জন্য চুক্তি করা হয়।
