১ অক্টোবর থেকে ব্রিটিশ ভিসা প্রসেসিং দিল্লিতেই হচ্ছে

British-High-Commision-logoএভিয়েশন নিউজ: ঢাকা থেকে ব্রিটিশ হাই-কমিশনের ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়া নয়াদিল্লিতে স্থানান্তর করা নিয়ে চিন্তিত না হতে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই-কমিশন। লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের তিনদিনের মাথায় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি প্রদান করে এ অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই-কমিশন জানায়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ব্রিটিশ ভিসা প্রসেসিং দিল্লিতে গেলেও সময়সীমা ও কোয়ালিটিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়, গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে ব্রিটিশ ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সারা বিশ্ব থেকেই ভিসা প্রসেসিং সেন্টারের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থের সাশ্রয়ের বিষয়টি অন্যতম বিবেচ্য বলে মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবেই ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই-কমিশনের ভিসা প্রসেসিং সিস্টেম নয়াদিল্লিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ১ অক্টোবর’২০১৪ থেকে বাংলাদেশে আবেদনকৃত সব ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নয়াদিল্লির ব্রিটিশ হাই-কমিশনের ভিসা সেকশন প্রসেসিং করবে।

বিবৃতিতে ভিসা প্রার্থীদের আশ্বস্থ করে বলা হয়, ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নয়াদিল্লিতে স্থানান্তর করা হলেও ভিসার আবেদন আগের মতোই ঢাকা ও সিলেটের ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে গ্রহণ করা হবে। ভিসা ফিসহ আনুষঙ্গিক সব খরচও বর্তমান অঙ্কের মধ্যেই থাকবে। বিবৃতিতে আরও আশ্বস্থ করা হয় যে, ভিসা প্রাপ্তির সময়সীমারও কোনো পরিবর্তন হবে না। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নন সেটেলমেন্ট আবেদন ১৫ দিন এবং সেটেলমেন্ট আবেদন ৬০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি হবে।

বিবৃতিতে ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়াটি দিল্লিতে স্থানান্তরের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, গত কিছুদিন ধরে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই-কমিশনের ভিসা প্রসেসিং নয়াদিল্লিতে স্থানান্তরের খবরে ভিসা প্রার্থীসহ বিভিন্ন মহলে সঙ্গত কারণেই ব্যাপক হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের কাস্টমারদের আশ্বস্থ করতে চাই। বিবৃতিতে এটিও নিশ্চিত করা হয় যে, ভিসার জন্যে কোনো আবেদনকারীকে দিল্লি যেতে হবে না এবং প্রসেসিং গতি ও কোয়ালিটিও আগের মতোই থাকবে।

ঢাকা থেকে ব্রিটিশ হাই-কমিশনের ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়া নয়াদিল্লিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে- এমন একটি খবরে গত কিছুদিন ব্যপক জল্পনা-কল্পনা চলছিল বাংলাদেশসহ ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটিতে। সরকারবিরোধী মহল বিষয়টিকে হাসিনা সরকারের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কের অবনতি হিসেবেই প্রচার করার চেষ্টা করছিলেন।

ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হতাশাব্যঞ্জক স্ট্যাটাস ও ভিসা প্রার্থীদের মধ্যে নেমে এসেছিলো চরম দু‍শ্চিন্তা। পুরো ব্রিটিশ হাই-কমিশনই তুলে নেওয়া হচ্ছে ঢাকা থেকে, ভিসা আনতে হলে এখন থেকে যেতে হবে দিল্লিতে, অপেক্ষা করতে হবে মাসের পর মাস- এমন সব গুজবও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল সবখানে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে নড়ে-চড়ে বসে ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই-কমিশন। বিষয়টি তোলা হয় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে।

গার্লস সামিট উপলক্ষে লন্ডনে এসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠকের সময় বিষয়টি উত্থাপন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বস্থ করা হয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত শেষে ওই দিন বিকেলেই লন্ডনে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এবং পরদিন স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি ব্রিটেন খতিয়ে দেখবে বলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা জানান।

ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের তিনদিনের মাথায়ই ব্রিটিশ ভিসা প্রসেসিং নিয়ে চিন্তিত না হতে বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই-কমিশন একটি বিবৃতি প্রদান করেছে। ‘রি-অ্যাস্যুরেন্স টু আওয়ার ভিসা কাস্টমারস অব কন্টিনিউয়িং অপারেশন উইদিন আওয়ার এক্সিস্টিং সার্ভিস স্ট্যান্ডার্ড’ শীর্ষক হোম অফিস থেকে প্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের এ বিবৃতির কপি বাংলানিউজেও পাঠানো হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.