বিমান চলাচল নিয়ে যা বলেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনা পরিস্থিতিতে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত বিষয়ে গাইলাইন দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য ঝুঁকির স্তর বিভক্ত করে মহামারি পরিস্থিতিতে গাইলাইন অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গাইড লাইন সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২৮ মার্চ দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য ৮ জন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দেয়। কোভিড-১৯ প্রতিরােধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করতেও তাদের বলা হয়। দেশের করোনা পরিস্থিতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যত প্রক্ষেপন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করার সম্ভাব্য উপায় এবং সতকর্তামূলক কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়েও পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়। কোডিড-১৯ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ সমাপ্তি না ঘটা পর্যন্ত এ গাইডলাইন বাস্তবায়ন ও অনুসরণ করতে হবে।

গাইডলাইনে বলা হয়েছে, বিমানের অভ্যন্তরীণ বায়ু চলাচল শক্তিশালী করতে হবে। বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহার না করা ভালো। বিমান পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। নবায়নযোগ্য জীবাণুনাশক পণ্য নির্বাচন করুন। প্রতিদিনের পরিষ্কার করার এলাকা এবং বারবার প্রতিরোধমূলক জীবাণুনাশকরণের সংখ্যা, ফ্লাইটের ঝুঁকি স্তর এবং বিমান পরিচালনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। বিমানে যখন সন্দেহজনক যাত্রী বহন করা হবে তখন ফ্লাইট শেষে এটি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। টার্মিনালসমূহও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। বিমানের পরিষেবাগুলো সহজসাধ্য করতে হবে। যাত্রীদের বিমানের ভেতরে একটি আসন পর পর বসার ব্যবস্থা করতে হবে। বিমানে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক যাত্রীদের জন্য জরুরি নির্গমণ প্রক্রিয়া ঠিক করতে হবে।

গাইডলাইনে আরও বলা হয়, বিমানবন্দরের টার্মিনাল কাঠামো বিন্যাস এবং স্থানীয় জলবায়ু অবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বায়ু চলাচল বৃদ্ধির জন্য ব্যবহারিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সঠিক তাপমাত্রায় দরজা এবং জানালা খুলতে হবে। বিমানবন্দরে জনসাধারণের জন্য এলাকাগুলোর পরিষ্কার এবং জীবাণুনাশকরণে জোর দিতে হবে। যাত্রীদের জমায়েত হওয়ার জায়গা যথার্থভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। বিমানবন্দরে যদি কোনও সন্দেহভাজন কেস, নিশ্চিত কেস বা সন্দেহজনক যাত্রী পাওয়া যায়, তবে পেশাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টার্মিনাল জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

গাইডলাইনে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করা যাত্রীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে। ক্যালিব্রেটেড নন-কনটাক্ট তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ সরঞ্জামের সাহায্যে বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিং সজ্জিত করা এবং যাত্রীদের হাত পরিষ্কারে প্রয়োজন জীবাণুনাশক পণ্য সরবরাহ করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে প্রবেশ বা ছেড়ে যাওয়া সমস্ত যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা নিতে হবে। টার্মিনাল বিল্ডিংয়ে কোয়ারেন্টিন অঞ্চল স্থাপন করতে হবে।

এছাড়া চেকইন পদ্ধতি সহজ করা, নন-কন্ট্যাক্ট বোর্ডিং পদ্ধতি অবলম্বন, বিশেষ প্যাসেজ স্থাপন এবং পুরো সময়ের জন্য যাত্রীর সঙ্গে কোনও স্টাফের অবস্থান করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ফ্রন্টলাইনে কাজ করা সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্মীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে হবে।

Comments (0)
Add Comment