করোনাভাইরাস পরিস্তিতির মাঝে অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা-স্লোগান সামনে রেখে ২০২০-২১ অর্থবছরের যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে তাতে অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য সুদির্নিষ্ট বরাদ্দ নেই বলে মত দিয়েছে অভিবাসন খাতের বিভিন্ন সংগঠন।
করোনার কারণে সামনের দিনগুলোতে কাজ হারিয়ে যারা ফেরত আসবেন এমন প্রবাসীসহ পুরো অভিবাসন খাতের জন্য সুদির্নিষ্ট বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৩ জুন) যৌথ বিবৃতি প্রদানকারী সংগঠনগুলোর পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী সূচক প্রবাসী আয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১ হাজার ৩৮০ বিলিয়ন টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৩৮৭ বিলিয়ন টাকা এসেছে। করোনার এই সংকটকালীন সময়েও প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করেননি। অথচ এই সংকটকালীন সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য মাত্র ৬৪১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সবচেয়ে কম পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে এটি শেষের দিকের একটি। অথচ এই সংকটময় সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা। কাজেই তাদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো দরকার ছিল।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিগত ১১ জুন ২০২০ সালে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২০২১ সালের বাজেটে মন্ত্রণালয়ের ৬৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ফেরত অভিবাসী কর্মীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে শুধুমাত্র ৫০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে যা অভিবাসী কর্মীদের অবদান এবং বিশেষ করে তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। অন্যদিকে, প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয় নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য বাজেট বৃদ্ধি করা এবং এর আওতা বাড়ানোর কথা প্রস্তাব করা হলেও, যথেষ্ট দাবী থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উঠে আসেনি। তাদের কর্মসংস্থানের কোন পরিকল্পনার কথাও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় পাওয়া যায়নি যা হতাশাজনক।
যৌথ বিবৃতিতে অভিবাসী কর্মীদের নিয়ে কর্মরত সংগঠনগুলো প্রস্তাবিত বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মী এবং বিদেশে অবস্থানরত অভিবাসী কর্মীর পরিবারের সদস্যদের জন্য যথাযথ পুনর্বাসন ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কয়েকটি দাবি করা হয়। এগুলো হলো,
প্রস্তাবিত জাতীয় নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মী এবং বিদেশে অবস্থানরত অভিবাসী কর্মীর পরিবারের সদস্যদের জন্য কমপক্ষে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের যথাযথ পুনর্বাসন ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা নেওয়া।
অভিবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপরে বিগত অর্থবছরে ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রণোদনা চার শতাংশ বাড়ানো।
অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য সুদির্নিষ্ট বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিও জানিয়ে, যৌথ বিবৃতি প্রদানকারী সংগঠনগুলো হলো, ওকাপ, বিএনএসকে, ব্র্যাক, আইআইডি, ওয়ারবী, বমসা, বাসুগ, ইনাফি, কর্মজীবী নারী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ), বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস), ডেভকম, ইমা, মাইগ্রেশন নিউজ এবং আওয়াজ ফাউন্ডেশন।