রামুন বিমানবন্দরে ‘আইয়াশ’ এর আঘাত, ইসরায়েলজুড়ে আতঙ্ক

প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের রামুন বিমানবন্দরে হামাসের মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আইয়াশ-২৫০ আঘাত হেনেছে। এরপরই ইসরায়েলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলের দীর্ঘ দিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই অসংখ্য রকেট হামলা চালিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। এতে সেনাসদস্য সহ সাতজন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

এর আগে হামাসের রকেট হামলার জেরে তেল আবিবের কাছাকাছি অবস্থিত ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিওন করা হয়েছিল। এরপর ইসরায়েল মূলত রামুন বিমানবন্দর দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছিল।

বৃহস্পতিবার সেখানেও আঘাত হানলো হামাস। বর্তমানে ইসরায়েলের রামুন বিমানবন্দরও বন্ধ ঘোষণা করা হল।

হামাসের মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আইয়াশ-২৫০ ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমকে ফাঁক গলে আঘাত হেনেছে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। বিশেষ করে ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তেল আবিবে একের পর এক রকেট আঘাত হেনেছে। যার জেরে গোটা শহরেই বাজানো হয় সতর্কতা সাইরেন।

হামাসের সামরিক শাখা ইয্যাদ্দিন কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দা বলেছেন, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে রামুন বিমানবন্দরে মধ্য পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‌‘আইয়াশ’ এর মাধ্যমে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। গাজা থেকে এই বিমানবন্দরের দূরত্ব মাত্র ২২০ কিলোমিটার। ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আইরন ডোম এটিকে আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করে আবু ওবায়দা বলেন, ‘আইয়াশ’ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী যেকোনো লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি হামাসের প্রয়াত নেতা ইয়াহিয়া আইয়াশের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হামাসের এই নেতা ১৯৯৬ সালের ৫ জানুয়ারি শিনবেত এলাকায় দখলদার ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

বিবিসি জানিয়েছে, ইসরাইল গাজা সীমান্তে দুটি পদাতিক ও একটি সাঁজোয়া ইউনিট মোতায়েন করেছে। এ ছাড়া সীমান্তে অতিরিক্ত ৭ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে দেশটি। তবে ফিলিস্তিনে হামলা চালানো হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। প্রায় হাজার খানেক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩১ শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

Comments (0)
Add Comment