শাহজালাল বিমানবন্দরে রাতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি!

‘ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবে- পাইলটের এমন ঘোষণার পরও যখন উড়োজাহাজটি আকাশে চক্কর দিতে লাগলো, আধঘণ্টারও বেশি সময় পর সেটি ল্যান্ড করে।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর টার্মিনালে এসে দেখি মানুষ আর মানুষ।

কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রী একইসঙ্গে লাইনে থাকায় ইমিগ্রেশন শেষ করে বের হতে অনেকটা সময় লেগে যায়।
তাছাড়া মালামাল বহনের জন্য যে ট্রলি দরকার সেই ট্রলিও খুঁজে পাইনি।
নিরূপায় হয়ে মালামাল হাতে টেনে আনতে হয়েছে।’

শনিবার ওমানফেরত একজন নারী প্রবাসী কর্মী শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এসব কথা বলেন।
ফ্লাইট বিলম্বের অবতরণ, একই সময়ে কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ইমিগ্রেশনে লম্বা লাইন থাকায় বিলম্ব, মালামাল বহনের জন্য ট্রলি সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেন তিনি।

 

দাঁড়িয়ে থাকা আরেক প্রবাসী কর্মী বলেন, কী কারণে জানি না, তবে আমাদের উড়োজাহাজটি আকাশে এক থেকে দেড় ঘণ্টা চক্কর দিয়ে অবশেষে অবতরণ করে।
নামার পর একই সঙ্গে দু-তিনটি ফ্লাইটের যাত্রী ইমিগ্রেশনের জন্য লাইনে দাঁড়ানোয় সেখানে কাঁচাবাজারের মতো জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, সময়মতো ল্যান্ড না করায় তিনি পরিবার-পরিজনের জন্য আগাম ট্রেনের টিকিট কেটে রেখেছিলেন।
বিলম্বের কারণে ট্রেন মিস হয়েছে।
সবমিলিয়ে তার ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত ১০ ডিসেম্বর থেকে রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠা-নামা বন্ধ করেছে বেসামারিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিমানবন্দরে হাইস্পিড ট্যাক্সিওয়ের নির্মাণ কাজের জন্য আগামী ছয় মাস রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা করে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে।
প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে দিন-রাতের অবশিষ্ট ১৬ ঘণ্টায় ২৪ ঘণ্টার সিডিউল ফ্লাইটের ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে।
ফ্লাইট সিডিউল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
নানা কারণে অনেক ফ্লাইট বিলম্বে ছাড়ছে।
কোনো কোনো ফ্লাইট অবতরণের সবুজ সংকেত না পেয়ে আকাশে চক্কর দিয়ে পরে অবতরণ করছে।

Comments (0)
Add Comment