ত্রুটি নিয়েই উড়েছিল ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহনকারী সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি। উড়োজাহাজের লেজের অংশ রানওয়ের সঙ্গে ঘষা লেগে চিড় (ফ্র্যাকচার) ধরে মূল কাঠামোয়। যদিও বৈমানিক ক্যাপ্টেন শফিউল করিম তত্ক্ষণাত্ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত না করেই ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজটি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ফেরেন। যদিও এ ধরনের ঘটনায় ফ্লাইট পরিচালনার আগে উড়োজাহাজটি উড্ডয়ন উপযোগী রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।

দুর্ঘটনা তদন্ত করে সম্প্রতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি)। ওই প্রতিবেদনেই বিষয়টি উঠে এসেছে।
এএআইজি-বিডির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ধারণা’ করা হচ্ছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজটির টেইল স্ট্রাইক হয়। রানওয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজটির লেজের অংশের ঘর্ষণ লেগে আগুনের ফুলকি বের হয়, যার সংকেত উড়োজাহাজের সতর্কীকরণ প্যানেলে দেখতে পান বৈমানিক।

যদিও দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন ধারণার ভিত্তিতে হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ উড়োজাহাজের টেইল স্ট্রাইক-সম্পর্কিত যেকোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তারিখ, সময়, ফ্লাইট নাম্বার ও অবস্থানের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডারে (ডিএফডিআর) সংরক্ষিত হয়। এ তথ্য যেকোনো সময় পাওয়া সম্ভব। অনুমান বা ধারণার কোনো সুযোগ নেই এক্ষেত্রে।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে এএআইজি-বিডির প্রধান ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন এম রহমতুল্লাহ বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। এ ধরনের তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছরেরও বেশি লেগে যায়।

তিনি বলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজটির টেইল স্ট্রাইকের সংকেত পাওয়ার পর বৈমানিক উড়োজাহাজটি ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন। নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় তাকে এজন্য শাস্তিও পেতে হয়েছে। ছয় মাসের জন্য বৈমানিককে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-১০৩ ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে।

একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অবতরণ করতে গিয়ে টেইল স্ট্রাইকের কবলে পড়ে উড়োজাহাজটি। এতে উড়োজাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় বৈমানিক হিসেবে ছিলেন ক্যাপ্টেন শফিউল করিম। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার বিষয়টি অবহিত করার নিয়ম থাকলেও সেটি না করে একই উড়োজাহাজে চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ফেরেন ক্যাপ্টেন শফিউল করিম। পরবর্তীতে যাত্রী নামিয়ে বৈমানিক উড়োজাহাজটি হ্যাঙ্গারে নিয়ে যান।

ওই সময় (গত ফেব্রুয়ারি) যোগাযোগ করা হলে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন ক্যাপ্টেন শফিউল করিম। পরে তিনি জানান, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার বিষয়টি অবহিত করেন। তবে তিনি এও বলেন, বড় কোনো দুর্ঘটনা এটি নয়। সে রকম কিছু হলে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাই করে ঢাকায় আসা সম্ভব হতো না।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির এয়ারফ্রেমের পেছনে কার্গো হোল্ডের নিচের দিকে চার ফুট বাই দুই ফুট জায়গায় চিড় ধরেছিল। এ থেকে বোঝা যায়, উড়োজাহাজের পাখার মূল কাঠামো (রিবস অ্যান্ড স্পার) ফেটে গেছে। এয়ারফ্রেম হলো উড়োজাহাজের প্রাইমারি স্ট্রাকচার।
সূত্রঃবণিকবার্তা

Comments (0)
Add Comment