হজ ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা

চলতি বছর হজ পালনে আগ্রহী প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশির নামে ভিসা করা হয়েছে। ভিসাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার হজযাত্রী বিমানের টিকিট সংগ্রহ করেননি। হজযাত্রী না পাওয়ায় বিমানের একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে ১৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে করে হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) নেতারা উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য হজ অফিসের পরিচালককে দায়ী করেছেন। সংগঠনটির নেতারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হজ পরিচালককে অপাসরণ করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
বিষয়টি তুলে ধরে গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে হাব। এ সময় হাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাহার বলেন, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯১ হাজার ৭৫৮ জনসহ মোট ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশিকে হজ পালনের অনুমোদন দিয়েছে রাজকীয় সৌদি সরকার। কিন্তু কোটা পূরণ না হওয়ায় সরকারি কোটার ৪ হাজার ৮০০ হজযাত্রীকে বেসরকারি কোটায় স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে সৌদি সরকার। সরকারি কোটার এসব হজযাত্রীকে ১৪৩টি এজেন্সির মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হজযাত্রীর কোটা বণ্টন করা হলেও মোয়াল্লেম ফির টাকা আইবিএএনের মাধ্যমে সৌদি আরব পাঠানো হয়নি। ফলে ১৪৩টি এজেন্সির মালিকরা বাড়িভাড়া করতে পারছেন না। এখন ৪ হাজার ৮০০ হজযাত্রীর জন্য ঝামেলায় পড়ছে ওই এজেন্সির আরও ১৫ হাজারের বেশি হজযাত্রী। সরকারি কোটার ৪ হাজার ৮০০ হজযাত্রীর মোয়াল্লেম ফি না দেওয়ায় মোয়াচ্ছাসা অফিস থেকে ১৪৩টি এজেন্সিকে বারকোড দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, সৌদি সরকার নির্ধারিত কোটার বাইরে আরও ১১ হাজার বাংলাদেশিকে হজ পালনের অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু ৪ হাজার ৮০০ হজযাত্রীর মোয়াল্লেম ফি প্রদান ও বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় ১১ হাজার হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়ে মোয়াচ্ছাসা অফিস ছাড়পত্র দিচ্ছে না। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ধীরগতিতে ৪ হাজার ৮০০ হজযাত্রীর কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন যেন ১১ হাজার হজযাত্রী পাঠানোর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করতে হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব অনভিজ্ঞ হওয়ায় এবং হজ পরিচালক ডিও লেটার দিতে বিলম্বসহ না জটিলতা সৃষ্টি করায় হজ ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম হচ্ছে এবং এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উদারণ টেনে বলেন, একটি এজেন্সির ১৫০ হজযাত্রী আছে। রিপ্লেসমেন্ট বা মাহারামজনিত কারণে ৪ থেকে ৫ জন ছাড়া অন্যদের ভিসা হয়েছে। এখন এজেন্সি মালিক ওই ৪-৫ জনের ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত টিকিট কাটছেন না। এতে ভিসাপ্রাপ্ত ২০ হাজার হজযাত্রীর টিকিট কাটা হচ্ছে না। ফলে হজ ফ্লাইটগুলো খালি যাচ্ছে। এ অবস্থার উত্তরণ না হলে হজ ব্যবস্থাপনায় চরম বিপর্যয় হবে। হজ ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে হাজার-হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব যেতে পারবেন না।
হাবের মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, হজ পালনে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার বাংলাদেশি ভিসা পেয়েছেন। ভিসাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫২ হাজার সৌদি আরব চলে গেছেন। ভিসাপ্রাপ্ত বাকি যারা আছেন, তাদের টিকিট কাটা যাচ্ছে না হজ অফিসের পরিচালক আবু মো. মোস্তফা কামালের অসহযোগিতার কারণে। তিনি দিনের বেলায় অফিসে যান না। তিনি যথাসময়ে ডিও লেটার দিচ্ছেন না। অধ্যাপকের মেডিক্যাল সনদপত্র ছাড়া রিপ্লেসমেন্ট দিচ্ছেন না। অথচ হজক্যাম্পে বসেই যারা অধ্যাপকের মেডিক্যাল সনদ বানাচ্ছে এবং ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিচ্ছে, রাতের বেলায় অফিসে গিয়ে তাদের রিপ্লেসমেন্ট ফাইলে স্বাক্ষর করছেন তিনি। আমরা এ ধরনের হজ পরিচালক চাই না। তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আমরা ১৪শ এজেন্সি মালিক তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।
এদিকে বিমানের টিকিট সংগ্রহে বিলম্বের কারণে হজযাত্রী পাঠাতে জটিলতা সৃষ্টি হলে তার দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিকে বহন করতে হবে বলে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। শুক্রবার রাতে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৬ সালে হজ গমনেচ্ছুদের জানানো যাচ্ছে যে, ভিসাপ্রাপ্ত হজযাত্রীদের তালিকা ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে অনতিবিলম্বে বিমানের টিকিট সংগ্রহ করে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। এতে আরও বলা হয়, বিমানের টিকিট সংগ্রহে বিলম্বের কারণে হজযাত্রী পাঠাতে জটিলতা সৃষ্টি হলে তার দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিকে বহন করতে হবে।

Comments (0)
Add Comment