এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে নারী সহযাত্রীর গায়ে ‘প্রস্রাব’ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরুষ যাত্রীর বিরুদ্ধে। গত ২৬ নভেম্বর ঘটনাটি ঘটেছে।
নিউইয়র্ক থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের একটি ফ্লাইটে বিজনেস ক্লাসে বসে থাকা ওই নারী যাত্রীর (৭০) গায়ে এক পুরুষ যাত্রী ‘প্রস্রাব’ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তোভুগি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনা তিনি বিমান কর্মীদের জানালেও সেই সময় বিমানে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। নারীর চিঠি পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।
পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়ার এক কর্মকর্তা এএনআইকে জানিয়েছেন বিষয়টি এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই পুলিশকে জানিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া বিষয়টি তদন্ত করার জন্য একটি ‘অভ্যন্তরীণ কমিটি’ও গঠন করেছে এবং পুরুষ যাত্রীকে ‘নো ফ্লাইট তালিকা’-তে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে বিষয়টি সরকারি কমিটির অধীনে রয়েছে এবং তাদের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। ২৬ নভেম্বর ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বিমান সংস্থার তরফে।
এদিকে ঘটনাটি ক্রু’দের জানালেও তারা ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ওই নারী টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্র শেখরনকে চিঠি লিখে জানান। এর পরেই এয়ার ইন্ডিয়া তদন্ত শুরু করে।
এয়ার ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানকে কঠিন ভাষায় লেখা ওই চিঠিতে প্রৌঢ়া জানান, ঘটনাটি সংবেদনশীল। এতে আমি মানসিক ভাবে বিপর্যন্ত হয়ে গিয়েছি। বিমানকর্মীরা একেবারেই সক্রিয় ছিলেন না। আমায় নিজেকেই বিষয়টি জানাতে হয়েছে এবং কর্মীদের সাড়া পাওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে থাকতে হয়েছে। আমি হতাশ। এই ঘটনায় আমার নিরাপত্তা বা আরাম কোনও কিছু নিশ্চিত করেনি এয়ারলাইন।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, সদ্য খাওয়া শেষ হয়েছে এবং লাইটগুলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আরেকজন যাত্রী আমার সিটের কাছে চলে আসেন। তিনি পুরোপুরি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তিনি আমার গায়ের উপর প্রস্রার করেন এবং নানা রকমের অশালীন আচরণ করতে থাকেন। শুধু প্রস্রাব করেই ক্ষান্ত হননি ওই ব্যক্তি। তিনি তারপরও প্রৌঢ়ার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আরেক সহযাত্রী ওই ব্যক্তিকে সরে যাওয়ার কথা বললে, তবেই তিনি সেই জায়গা ছেড়ে চলে যান। প্রৌঢ়া নারী তাঁর যন্ত্রণার ছবিটি তুলে ধরেন, আমার জামাকাপড়, জুতো এবং ব্যাগ সবকিছু প্রস্রাবে ভিজে গিয়েছিল। বিমান পরিষেবিকা আমার সিটের কাছে আসেন। তিনি গন্ধ শুঁকে পরীক্ষা করে দেখেন যে, গন্ধটি সত্যিই প্রস্রাবের কি না। এরপর তিনি আমার ব্যাগ আর জুতোয় জীবাণুনাশক পদার্থ স্প্রে করে দেন। নারী সিট এবং জামাকাপড় থেকে প্রস্রাবের গন্ধ বের হওয়ায় তাঁকে এক সেট পাজামা দেন বিমান
রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর সিটটি পুরো ভিজে যাওয়ায় ওই মহিলা শৌচালয়ের কাছে প্রায় ২০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বভাবত তিনি সেখানে ফিরতে চাইছিলেন না। বিমাকর্মীদের জন্য রাখা একটি ছোট্ট সিটে তাঁকে বসতে দেওয়া হয়। সেখানে এক ঘণ্টা থাকার পর বিমান পরিবেষা কর্মীরা তাঁকে তাঁর ওই ভিজে যাওয়া সিটে ফিরে যাওয়ার কথা জানান। ওই প্রৌঢ়ার অভিযোগ, ফার্স্ট ক্লাসে অনেকগুলো সিট খালি থাকলেও এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীরা তাঁকে তাঁর সিটে চলে যেতে বলেন। অথচ সেখান থেকে প্রস্রাবের তীব্র কটূ গন্ধ বের হচ্ছিল। ২ ঘণ্টা বাদে তাঁর জন্য অন্য একটি সিটের বন্দোবস্ত করেন বিমান পরিষেবা কর্মীরা। সেখানে বাকি যাত্রাপথটা কাটান প্রৌঢ়া।
তিনি চিঠিতে জানান, বিমান পরিষেবা কর্মীরা একবারের জন্যও ভাবেননি, আগে একটি অসহায় যাত্রীর যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। যাত্রা শেষে একজন কর্মী আমায় বলেন যে, তিনি আমার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন, যাতে আমি যত দ্রুত সম্ভব শুল্ক দফতরের কাজকর্ম সেরে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারি। অপেক্ষা করার জায়গায় আধ ঘণ্টা ধরে বসেছিলাম। তারপর আমায় হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। আমি নিজেই শুল্ক দপ্তরের কাজকর্মগুলো সেরে আমার জিনিসপত্র সংগ্রহ করি। তখনও এয়ার ইন্ডিয়ার দেওয়া পাজামা ও মোজা পরেছিলাম।
বিমানকর্মীরা দিল্লিতে বিমানটি অবতরণ করার পরেও বিমানকর্মীরা ওই ব্যক্তিকে আটকানোর কোনও চেষ্টা করেননি বলে অভিযোগপত্রে লিখেছেন ওই নারী যাত্রী।