রিজার্ভের বাকি অর্থ ফেরাতে ফিলিপাইন যাচ্ছেন দুই মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপাইনের একটি আদালত।

বাকি ৬ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার ফেরত আনার বিষয়ে ফিলিপাইন যাচ্ছেন সরকারের দুই মন্ত্রী।

আগামী মাসেই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ম্যানিলা যাবেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুরি যাওয়া বাকি অর্থ ফিরিয়ে আনার কৌশল নির্ধারণ করতেই দুইমন্ত্রীর ফিলিপাইন সফর। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৮-২৯ তারিখে যাওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকায় ওই দেশের রিজাল ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়ের করা হয় মামলাও।

এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর (সোমবার) শুনানি শেষে বাজেয়াপ্ত ও ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত ৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ৪৮৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন পেসো বাংলাদেশের অনুক‍ূলে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেয় দেশটির রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্ট (ন্যাশনাল ক্যাপিটাল জুডিশিয়াল রিজিওন)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, বাকি অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে বা বিষয়টা সমাধান করতে কী কী করণীয়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে।

‘যেহেতু বিষয়টা আইনের, মামলা করারও একটা কথা আছে। প্রয়োজনে আমরা সেখানকার আদালতে মামলা করে টাকা দাবি করবো। এজন্য আমাদের আইনিভাবে তৈরি হয়েই যেতে হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘অসর্তকতা’তেই প্রায় সাড়ে সাত মাস আগে বিপুল পরিমাণ এ অর্থ চুরি হয়ে যায়। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমেই চুরি হয় রিজার্ভের এ অর্থ।

প্রথমে গোপন রাখা হলেও প্রায় একমাস পর জানাজানি হয় এ ঘটনা। পরে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

Comments (0)
Add Comment