শ্রম আইন লঙ্ঘন করে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের বঞ্চিত করার অভিযোগে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার কর্মকর্তাকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন শ্রম আদালত।
গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই আদালত ড. ইউনূসকে এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে জামিন দেন।
দণ্ড পাওয়া অন্য তিনজন হলেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও মো. শাহজাহান। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ১০১ শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করা, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায়। ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। ৮৪ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক বলেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন ড. ইউনূসসহ বাকিরা। আপিল বিভাগ গত ২০ আগস্ট সে আবেদন চূড়ান্তভাবে খারিজ করে দেন। এরপর গত ২২ আগস্ট শ্রম আদালতে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়, যা শেষ হয় গত ৯ নভেম্বর। এতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেন।
ড. ইউনূসসহ চার আসামিকে শ্রম আইন ৩০৩ (ঙ) ধারা লঙ্ঘন করায় ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে শ্রম আইনে ৩০৭ ধারা লঙ্ঘন করায় প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে সাজা হলেও আপাতত জেলে যেতে হচ্ছে না গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইউনূসসহ চারজনকে। আপিলের শর্তে তাদের এক মাসের জামিন দিয়েছেন বিচারক।
এছাড়াও এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী শ্রমিকদের সব ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি যেসব কারণে অপরাধ হয়েছে সেগুলো দূরীভূত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও সৈয়দ হায়দার আলী। অন্যদিকে ড. ইউনূসসহ চারজনের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ড. ইউনূসসহ অন্য আসামিরাও। আলোচিত এ রায় শুনতে এজলাস কক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ, মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আক্তার ও রেহনুমা আহমেদ।