আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA)-এর প্রধান উইলি ওয়ালশ সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের কারণে ইউরোপে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি এখন “অনিবার্য” হয়ে উঠেছে। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে জেট ফুয়েলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিমান সংস্থাগুলো এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে পারবে না, ফলে শেষ পর্যন্ত এর বোঝা যাত্রীদের ওপরই পড়বে।বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো স্ট্রেইট অব হরমুজ অঞ্চলে চলমান অস্থিরতা। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আংশিকভাবে বন্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় জেট ফুয়েলের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য সাধারণত এই অঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে থাকে। ফলে সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে এবং বিমান শিল্পে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত বড় ধরনের জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজে বের করা এবং নতুন রুটে জ্বালানি পরিবহন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এই পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় তাৎক্ষণিক স্বস্তি আসার সম্ভাবনা কম।
উইলি ওয়ালশ আরও বলেন, বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে গ্রীষ্মকাল সবসময়ই সর্বোচ্চ চাহিদার সময়। এই সময়ে সাধারণত ফ্লাইট পরিচালনা ও জ্বালানির চাহিদা প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। যদি এই বাড়তি চাহিদার সময় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে ইউরোপে আংশিক জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে তিনি একই সঙ্গে আশ্বস্ত করে বলেন, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই এবং ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি সতর্ক করেন, কিছু এয়ারলাইন সাময়িকভাবে যাত্রী আকর্ষণের জন্য টিকিটের দাম কমালেও এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে না। কারণ জ্বালানি খরচ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে টিকিটের দাম ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবেই বৃদ্ধি পাবে। বিমান সংস্থাগুলো শেষ পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ব্যয় যাত্রীদের কাছ থেকেই আদায় করতে বাধ্য হবে।
সরকারি পর্যায় থেকেও জানানো হয়েছে যে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এবং ফ্লাইট পরিচালনা স্বাভাবিক রাখতে বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকটের প্রভাব কমানো যায়।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু ইউরোপ নয়, বৈশ্বিক বিমান শিল্পেই ভাড়া বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।