ইউরোপ থেকে তুলনামূলক কম খরচে দক্ষিণ কোরিয়া ভ্রমণের নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে জার্মানির শীর্ষ এয়ারলাইন লুফথানসা। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম থেকে দক্ষিণ কোরিয়াগামী রিটার্ন ফ্লাইটের ভাড়া শুরু হয়েছে মাত্র ৫৮০ ইউরো থেকে। পূর্ণসেবা ভিত্তিক এই অফার ইউরোপীয় ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এশিয়া ভ্রমণকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলেছে।
এই অফারের মাধ্যমে যাত্রীরা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। আধুনিক প্রযুক্তি, কেপপ সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী মন্দির, জমজমাট নাইট মার্কেট এবং ব্যতিক্রমধর্মী খাবারের জন্য সিউল এখন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। শহরের ব্যস্ততা ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক জীবনের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বৌদ্ধ মন্দিরগুলো পর্যটকদের ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় তুলনামূলক কম দামে দীর্ঘপথের ভ্রমণ সম্ভব হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় লুফথানসার এই অফার ভ্রমণ বাজারে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।
পূর্ণসেবা ভিত্তিক এ টিকিটে যাত্রীরা বেশ কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন, যা সাধারণ স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইনসে পাওয়া যায় না। এর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে খাবার, নির্ধারিত ব্যাগেজ সুবিধা এবং দীর্ঘ যাত্রার জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক আসন ব্যবস্থা। এছাড়া ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার সদস্যরা ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য পয়েন্ট বা মাইলেজও অর্জন করতে পারবেন।
ধারণা করা হচ্ছে, এ রুটে যাত্রার ক্ষেত্রে লুফথানসার জার্মানির বিভিন্ন হাব বিমানবন্দর ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ যাত্রীদের ফ্রাঙ্কফুর্ট বা মিউনিখ হয়ে সিউলে যেতে হতে পারে। যদিও এতে ভ্রমণের সময় কিছুটা বাড়তে পারে, তবে কম ভাড়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ অনেক পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে এমন একটি গন্তব্য যেখানে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা, নিরাপদ শহুরে পরিবেশ এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এদিকে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নতুন গতি আনতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপের তরুণ ভ্রমণকারী ও মধ্যবিত্ত পর্যটকদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজলভ্য গন্তব্য হয়ে উঠছে।