প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিউজিল্যান্ডজুড়ে বিমান ও নৌ যোগাযোগে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী ওয়েলিংটনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং উচ্চ ঢেউয়ের কারণে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপের মধ্যে চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ ফেরি পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ওয়েলিংটন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রবল বাতাসের আঘাতে বিমানবন্দরে পার্ক করে রাখা একটি হালকা ওজনের বিমান উল্টে যায়। ঘটনাটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরের কার্যক্রম সীমিত করা হয় এবং অন্তত আটটি নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে।
যাত্রীদের অনেকেই হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেকের ভ্রমণ পরিকল্পনাও ব্যাহত হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের নিয়মিত ফ্লাইট আপডেট অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।
অন্যদিকে সমুদ্রের অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপের মধ্যকার ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই রুটটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানী ওয়েলিংটন এবং আশপাশের এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ উপকূলে প্রায় ২৯ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় অত্যন্ত উচ্চগতির বাতাস বইতে পারে, যা উপকূলীয় অবকাঠামো এবং বসতবাড়ির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির ঘটনা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে এবং নিউজিল্যান্ডও এর ব্যতিক্রম নয়। শক্তিশালী ঝড়, অতিবৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো ঘটনা এখন আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সেবা সংস্থাগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমান ও নৌ যোগাযোগে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।