প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স অর্জনকারী বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাতায়াত আরও সাশ্রয়ী ও সহজ করতে সরকার বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি সংসদে জানান, বিশেষ করে শ্রমনির্ভর খাতে কর্মরত প্রবাসীদের কথা বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে বিশেষ ভাড়া সুবিধা চালু করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে শাহাদাত হোসেন এমপির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মালয়েশিয়াগামী রুটে “টি-ক্লাস” নামে বিশেষ টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানের সূত্র অনুযায়ী, টি-ক্লাস মূলত একটি সুপার সেভার ইকোনমি শ্রেণির ভাড়া, যা সাধারণের তুলনায় অনেক কম দামে টিকিট নিশ্চিত করে।
তিনি জানান, ঢাকা–জেদ্দা রুটে ভাড়া ৬২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা–রিয়াদ এবং ঢাকা–দাম্মাম রুটেও ভাড়া ৬২ হাজার টাকা থেকে কমে ৪৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা–দোহা রুটে ভাড়া ৫৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। ঢাকা–মাস্কাট রুটে ৫৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪৬ হাজার টাকা এবং ঢাকা–কুয়ালালামপুর রুটে ৩৯ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ যাত্রী ও বিশেষ করে শ্রমিকরা কম খরচে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তারা সহজেই দেশে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব উদযাপন করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অনেক শ্রমিকের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানের খালি আসনগুলো ব্যবহার হওয়ায় বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আফরোজা খানম বলেন, হজ মৌসুমে জেদ্দা ও মদিনা থেকে খালি ফেরত আসা ফ্লাইটে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ কম ভাড়ার টিকিট চালু করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে টিকিটের মূল্য ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে আগে একই রুটে ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের জন্য টিকিট রিফান্ড, ফ্রি রি-ইস্যু এবং তারিখ পরিবর্তনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট প্রদান করা হবে।
এছাড়া সরকারিভাবে নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।