মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে পর্যটকদের আস্থা ধরে রাখতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি প্রধান বিমান সংস্থা—এমিরেটস এবং ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। যাত্রীদের ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত করতে তারা নতুন ধরনের বিশেষ “সংঘাত বীমা” ও সহায়তা প্যাকেজ চালু করেছে।
বিমান সংস্থাগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের পর এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্প বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫১৫ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে পর্যটন খাতে।
যদিও ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে আসে, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে যায় ভ্রমণ বীমা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা। অনেক দেশ এখনো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি রেখেছে, যার ফলে প্রচলিত বীমা নীতিমালাও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর থাকে না।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এমিরেটস ও ইতিহাদ নতুন বীমা কাঠামো চালু করেছে, যা যাত্রীদের বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেবে। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সহায়তা, ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ক্ষতিপূরণ, ভ্রমণ বিঘ্ন, লাগেজ হারানো এবং জরুরি অবস্থায় থাকার সময় বাড়ানোর সুবিধা।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের যাত্রীদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দেবে। এই উদ্যোগকে যাত্রী সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এমিরেটস সরাসরি বুকিং করা যাত্রীদের জন্য একটি বিস্তৃত ভ্রমণ বীমা সুবিধা চালু করেছে। এতে সংঘাতজনিত কারণে ফ্লাইট পরিবর্তন, জরুরি পরিস্থিতিতে থাকার সময় বৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয়, ফ্লাইট বাতিল ও লাগেজ ক্ষতির মতো বিভিন্ন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন শিল্পে আস্থা পুনরুদ্ধারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে যখন অনেক পর্যটক এই অঞ্চল ভ্রমণে দ্বিধায় ছিলেন, তখন এই ধরনের বীমা সুবিধা ভ্রমণকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।
এভিয়েশন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমিরেটস ও ইতিহাদের এই পদক্ষেপ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যাত্রী আকর্ষণ ও ধরে রাখার কৌশল হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য এয়ারলাইন্সও একই ধরনের বীমা সেবা চালুর পথে যেতে পারে।