বিদেশি ফ্লাইটে বদলে যেতে পারে সিলেটের আকাশপথ

বহু প্রতীক্ষার পর বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে জেগেছে নতুন আশা ও সম্ভাবনা।

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই নামের সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক’ পরিচয় বহন করলেও বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটের অভাবে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ একাধিক বিদেশি এয়ারলাইনস সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রমে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গত এক দশকে ওসমানী বিমানবন্দরে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। রানওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক কার্গো ও ওয়্যারহাউস নির্মাণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বড় আকারের উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে বিমানবন্দরটি। তবুও বিদেশি এয়ারলাইনসের অনুপস্থিতি সিলেটের আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে সীমিত রেখেছে।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লন্ডন, ম্যানচেস্টার, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, শারজাহ ও আবুধাবি রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া আগামী আগস্ট থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস মক্কা ও মদিনায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।

বিদেশি এয়ারলাইনসের মধ্যে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল ফ্লাইদুবাই। ২০১৫ সালে সিলেট–দুবাই রুটে যাত্রা শুরু করলেও ২০১৮ সালে বাণিজ্যিক কারণে তারা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে পুনরায় সিলেটে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে এয়ারলাইনসটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের এয়ার আরাবিয়া সিলেট–দুবাই রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে ওমানভিত্তিক সালামএয়ার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট–মাস্কাট রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী।

সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশের সিলেট–ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালু হওয়াও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রুট চালু হলে সিলেট উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট শুরু হলে টিকিটের দাম কমবে, যাত্রীদের বিকল্প বাড়বে এবং কার্গো পরিবহন সহজ হওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্যও লাভবান হবে। প্রবাসীসেবা, পর্যটন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সিলেটের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বহু প্রতীক্ষার পর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন সত্যিকার অর্থেই একটি আন্তর্জাতিক আকাশপথের কেন্দ্র হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

Comments (0)
Add Comment