টাইফুন বাভিতে সাংহাইয়ে ৬৫৩ ফ্লাইট বাতিল

চীনের চলতি বছরের নবম টাইফুন ‘বাভি’ ঝেজিয়াং প্রদেশে আঘাত হেনে পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

চীনের চলতি বছরের নবম টাইফুন ‘বাভি’ ঝেজিয়াং প্রদেশে আঘাত হেনে পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ১১ জুলাই রাত ও ১২ জুলাই ভোরে স্থলভাগে প্রবেশ করা এ ঝড়ের কারণে সাংহাইসহ একাধিক প্রদেশে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

টাইফুনের গতিপথ বিশ্লেষণ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জাতীয় বন্যা ও খরা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া ব্যুরো এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। ঝড় ও বন্যা প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারকির জন্য বিশেষজ্ঞ দল আনহুই প্রদেশে পাঠানো হয়েছে। ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ানে বন্যা মোকাবিলার জরুরি সতর্কতা তৃতীয় স্তরে উন্নীত করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জলাধার ও ছোট নদীগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।

পরিবহন মন্ত্রণালয় ভারী বৃষ্টিপাত মোকাবিলার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ফুজিয়ান, ঝেজিয়াং ও হেবেই প্রদেশের পরিবহন ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া কেন্দ্র লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় ও জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ফুজিয়ান ও ঝেজিয়াংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ৪ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করেছে। এ অর্থ সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের আশ্রয়, ত্রাণ বিতরণ ও দুর্যোগ-পরবর্তী ঝুঁকি হ্রাসে ব্যয় করা হবে।

সাংহাইয়ে ৮ থেকে ১০ মাত্রার দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে, আর উপকূলীয় এলাকায় এর তীব্রতা আরও বেশি। শহরের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণ হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রায় তিন লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ৯০৫টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাংহাইয়ের পুডং ও হংকিয়াও বিমানবন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মোট ৬৫৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা দুই বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে পুডং বিমানবন্দরে ৪৫৮টি এবং হংকিয়াওতে ১৯৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ভ্রমণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে আরও হাজারো ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে।

এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন, চায়না সাউদার্ন, স্প্রিং এয়ারলাইন্স ও জুনিয়াও এয়ারসহ বড় বিমান সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য টিকিট পরিবর্তন ও ফেরতের বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন বিমানবন্দরগুলোকে আবহাওয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং যাত্রীদের দ্রুত তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিন উত্তর ও পূর্ব চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও নগর প্লাবনের ঝুঁকি বাড়াবে।

Comments (0)
Add Comment