আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চলতি মাসে কুয়েত–ঢাকা রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর আশা জাগলেও আবারও সেই আশা ভেঙে দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ জুলাই পর্যন্ত কুয়েত–ঢাকা রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে দেশে ফেরা কিংবা কর্মস্থলে যোগ দিতে প্রস্তুত হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুয়েত কান্ট্রি ম্যানেজার এ.কে.এম. ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে অনিবার্য কারণবশত কুয়েত রুটের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রীদের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি ও যাত্রীদের দ্রুত বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
ফ্লাইট স্থগিতের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। অনেকেই দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন, আবার কেউ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।
অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের টিকিট সংগ্রহ করছেন। তবে বিকল্প ফ্লাইটের ভাড়া তুলনামূলক অনেক বেশি হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে আর্থিক চাপের পাশাপাশি মানসিক উদ্বেগও বেড়েছে।
বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর কুয়েতের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে কিংবা যাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কুয়েত–ঢাকা রুটে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা হবে। তবে ঠিক কবে থেকে নিয়মিত ফ্লাইট চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে কুয়েত–ঢাকা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইট অনিয়মিত থাকায় কর্মজীবন, পারিবারিক প্রয়োজন এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে প্রবাসীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।