মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ইসরায়েলগামী নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে ইউরোপের দুটি বড় বিমান সংস্থা—অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্স এবং ইতালির আইটিএ এয়ারওয়েজ। শনিবার (২৫ জুলাই) পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা সব নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শনিবারের পরও ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলো তাদের ফ্লাইট পরিচালনায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও ফ্লাইট স্থগিত বা রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বারবার বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে অনেক এয়ারলাইনস পুনরায় ফ্লাইট চালু করেছে, আবার সংঘাত তীব্র হলে সাময়িকভাবে সেবা স্থগিত করেছে। ফলে ইসরায়েলগামী বিমান চলাচল গত প্রায় তিন বছর ধরেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ফ্লাইট বাতিলের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনাও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি আর বহাল নেই। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব শুধু আকাশপথেই নয়, সমুদ্রপথেও পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, ইসরায়েল ও আশপাশের অঞ্চলে ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকা যাত্রীদের সর্বশেষ ভ্রমণ পরামর্শ ও ফ্লাইট সূচি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভ্রমণের আগে টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। অনেক এয়ারলাইন ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।