রুট বদলে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে বাড়ছে স্বর্ণ চোরাচালান

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানে অপরাধচক্র রুট ও কৌশল পরিবর্তন করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানে অপরাধচক্র রুট ও কৌশল পরিবর্তন করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, গত দুই থেকে আড়াই বছর ধরে সাধারণত দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের স্বর্ণের চালান জব্দ হলেও চলতি বছর থেকে ১৫ কেজি বা তারও বেশি ওজনের বড় চালান ধরা পড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ও পাচারের ধরন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে চোরাকারবারীরা শুধু যাত্রী নয়, কার্গো এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটকেও ব্যবহার করছে। তাদের ধারণা, যেসব চালান ধরা পড়ছে না, সেগুলোর পরিমাণ আরও বড় হতে পারে। সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের একটি বড় অংশও বিমানবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশের পর বিভিন্ন রুটে পাচার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ডিজিএফআই ও ঢাকা কাস্টমস হাউসের যৌথ অভিযানে ফলের ক্যারেটের মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অন্তত ১৬ কেজি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। গোয়েন্দাদের ভাষ্য, আমদানি করা ফলের চালানের মধ্যে স্বর্ণ লুকিয়ে আনার ঘটনা এই প্রথম ধরা পড়েছে। ক্যাথে প্যাসিফিক কার্গো বিমানে আসা রামবুটান, চেরি ও অ্যাভোকাডোর কার্টনের মধ্যে স্বর্ণ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।

এদিকে গোয়েন্দারা আরেকটি নতুন পাচার রুটের তথ্যও পেয়েছেন। দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে একই বিমানে দুজন সদস্য যাতায়াত করে স্বর্ণ হাতবদল করছে। দুবাই থেকে আসা যাত্রী বিমানের ভেতরেই চট্টগ্রাম থেকে ওঠা আরেক সদস্যের কাছে স্বর্ণ হস্তান্তর করেন। পরে ওই ব্যক্তি অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল দিয়ে বের হয়ে যান। গত ২৩ জুলাই এই কৌশল ব্যবহার করে পাচারের সময় ৭২০ গ্রাম স্বর্ণসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত তিন মাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি বড় অভিযানে ৫২ কেজির বেশি স্বর্ণ জব্দ হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকারও বেশি। গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ বিমানের দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের কার্গো কম্পার্টমেন্ট থেকে ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরে ২ জুলাই একই ধরনের আরেক অভিযানে উদ্ধার হয় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ। সর্বশেষ ১৯ জুলাই কার্গো ভিলেজ থেকে জব্দ করা হয় আরও ১৬ কেজি স্বর্ণ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম দুটি ঘটনায় একই ধরনের কৌশল এবং একই এয়ারলাইনস ব্যবহারের মিল পাওয়া গেছে। তদন্তে বাংলাদেশ বিমানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও মিলেছে। তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে নতুন কৌশলেও স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধ করা যায়।

Comments (0)
Add Comment