কারিগরি ত্রুটির কারণে ইতালির রোমে আটকে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ মেরামতে প্রকৌশলী দল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পাঠানো হয়েছে। উড়োজাহাজটির ত্রুটি দ্রুত সমাধান করে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
শনিবার (৮ আগস্ট) সর্বশেষ এক আপডেটে বিমান জানায়, নির্ধারিত উড়োজাহাজটি বর্তমানে রোমে ‘এয়ারক্রাফট অন গ্রাউন্ড’ (AOG) অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ কারিগরি সমস্যার কারণে উড়োজাহাজটি সাময়িকভাবে উড্ডয়ন করতে পারছে না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির নিবন্ধন নম্বর S2-AJY। এটি টরন্টো-রোম-ঢাকা রুটে পরিচালিত বিজি৩০৬ ফ্লাইটে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে উড়োজাহাজটির উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়।
ত্রুটি নিরসনের জন্য প্রকৌশলী দল ও প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস শনিবার বিজি৩০৫ ফ্লাইটে রোমের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। বিমান জানিয়েছে, প্রকৌশলী দল ও যন্ত্রাংশ নিয়ে ফ্লাইটটি রোম স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রকৌশলী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজটির কারিগরি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ শুরু করবে। ত্রুটিটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সমাধান করা সম্ভব হলে একই দিন রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিজি৩০৬ ফ্লাইটটি ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিজি৩০৬ রোম স্থানীয় সময় রাত ১০টায় রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারে। ফ্লাইটটি পরদিন ৯ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তবে উড়োজাহাজটির মেরামত ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ হওয়ার ওপরই ফ্লাইটটির চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করছে। কারিগরি পরীক্ষা শেষে উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করা হলেই ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
এর আগে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিজি৩০৬ ফ্লাইটের যাত্রা বিলম্বিত হওয়ায় রোমে অবস্থানরত যাত্রীদের জন্য হোটেল, খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বিমান জানিয়েছে, যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য নিয়মিত জানানো হবে। পরিবর্তিত সময়সূচি কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে নিরসন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ করার পরই ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।