এয়ার কানাডার তেলআবিব-দুবাই ফ্লাইট স্থগিত জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তেলআবিব ও দুবাই রুটে ফ্লাইট স্থগিত রাখার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কানাডার এয়ার কানাডা।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তেলআবিব ও দুবাই রুটে ফ্লাইট স্থগিত রাখার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কানাডার এয়ার কানাডা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এসব রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে না এয়ারলাইনটি।

এর আগে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তেলআবিব ও দুবাইয়ের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল এয়ার কানাডা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও কয়েক মাস বাড়ানো হয়েছে। এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গত ২ মার্চ প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করে এয়ার কানাডা। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, আকাশসীমার নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য ফ্লাইট ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রুটে তাদের কার্যক্রম কমিয়ে বা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

এয়ার কানাডা জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের আগে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি এয়ারলাইনটি।

তেলআবিব ও দুবাই মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগকেন্দ্র হওয়ায় এয়ার কানাডার সিদ্ধান্তের প্রভাব যাত্রীদের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে কানাডা থেকে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের বিকল্প রুট বা অন্য এয়ারলাইন ব্যবহার করতে হতে পারে। একই সঙ্গে কানাডা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও ভ্রমণের আগে ফ্লাইট সূচি ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কানাডা সরকারও নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান ও ওমানে ‘অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েল ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছে কানাডা। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, লেবানন ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে নাগরিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুধু কানাডা নয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিজ নিজ নাগরিকদের ইসরায়েল ও অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

Comments (0)
Add Comment