ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলের ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন বা এফআইআরকে প্রভাবিত করছে টাইফুন নং ৪ ‘নাররা’। ঝড়ের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের আকাশসীমায় তীব্র বজ্রঝড় ও শক্তিশালী মেঘপুঞ্জ তৈরি হওয়ায় ফ্লাইট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
২২ আগস্ট সকাল ৭টার তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনটির কেন্দ্র টনকিন উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে কোয়াং নিন ও হাই ফংয়ের সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছিল। কেন্দ্রের কাছাকাছি সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ৮ মাত্রা এবং দমকা হাওয়া উঠছিল ১০ মাত্রা পর্যন্ত। ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টি টনকিন উপসাগরের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এবং পরে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৭২ থেকে ১২০ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
টাইফুনের প্রভাবে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শক্তিশালী বজ্রঝড় ও পরিচলন মেঘ নিয়ে। ঝড়ের সঙ্গে যুক্ত ক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল এবং শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের কারণে উত্তরাঞ্চলের আকাশে বড় আকারের বজ্রঝড়ের মেঘ তৈরি হচ্ছে। এসব মেঘের চূড়া প্রায় ১৪ দশমিক ৬ থেকে ১৬ দশমিক ২ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
এ ধরনের আবহাওয়া বিমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বজ্রপাত, তীব্র বায়ুপ্রবাহ, আকস্মিক বায়ুর পরিবর্তন এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উড্ডয়ন ও অবতরণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভ্যান ডন, ক্যাট বি এবং নোই বাই বিমানবন্দরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দরকে তাই বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
ভিয়েতনাম এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন (VATM) পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঝড়ের গতিপথ এবং বিমান চলাচলের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
VATM-এর অধীন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিদিন সকাল ৬টা ও দুপুর ১২টায় আবহাওয়া ও ফ্লাইট পরিচালনার পরিস্থিতি হালনাগাদ করছে। এসব তথ্য দুর্যোগ প্রতিরোধ ও অনুসন্ধান-উদ্ধার কমান্ড বোর্ডের কাছে পাঠানো হচ্ছে। পরে তা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।
টাইফুনটির গতিপথ এখনো পরিবর্তনশীল হওয়ায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হলো আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, সময়মতো ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে ভিয়েতনামের আকাশসীমায় নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করা।